নিজস্ব বর্ধমান, বর্ধমান: লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে আমজনতাকে হয়রানি করার অভিযোগে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব বর্ধমানে। এদিন ভাতারে বিডিও অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা হাতে জনতা বিক্ষোভ দেখায়। তারা দীর্ঘক্ষণ বর্ধমান-কাটোয়া রাস্তা অবরোধ করে রাখে। দেওয়ানদিঘিতেও এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নয়া ফরমানে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে সংখ্যালঘুরা। নামের বানানে ছোট ভুল থাকলেই তাঁদের ডেকে পাঠানো হচ্ছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বেশ কিছু গ্রামে অর্ধেকের বেশি ভোটার শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। হয়রানি বন্ধ না হলে জেলায় বড় অশান্তির আশঙ্কা করছেন আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের জন্য অনেক জায়গায় বিএলও-রা টার্গেট হয়ে যাচ্ছেন। এদিনও ভাতারে ক্ষোভের মুখে পড়েন একজন অস্থায়ী কর্মী। তাঁকে হেনস্তাও করা হয়। এদিন মন্তেশ্বর ব্লকে বিএলও-রা একাধিক দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেন। তাঁদের দাবি, ভোটার, আধার, রেশন কার্ড থাকলে ভোটারদের বৈধ বলে ঘোষণা করতে হবে।
ভাতারের বাসিন্দা আনোয়ার শেখ বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করতে চাইছে। আমার এক আত্মীয়কে পদবির বানান ভুল থাকায় শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এদেশেই আমাদের পূর্ব পুরুষদের জন্ম। তারপরও হয়রান করা হচ্ছে। আরেক বাসিন্দা সামিমা খাতুন বলেন, ২০০২ সালের বাবার নামের বানান ভুল ছিল। পরে তা সংশোধন করা হয়। সেই কারণে নির্বাচন কমিশনের কাছে বাবা ‘সন্দেহজনক’ হয়ে গিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে সমস্যায় ফেলা হয়েছে।
দেওয়ানদিঘি থানার নেড়াগোয়াল গ্রামের বহু বাসিন্দাকে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁরাও এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ব্লকেই ২০ থেকে ২২ হাজার ভোটারকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে তাঁদেরকে শুনানি কেন্দ্রে হাজিরা দিতে হচ্ছে। বিএলও বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে বোঝা যাচ্ছে। এক শ্রেণির মানুষকে বিপাকে ফেলায় তাঁদের উদ্দেশ্যে। ২০০২সালে ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদেরকেও শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হচ্ছে। কার কতগুলি সন্তান রয়েছে সেটা দেখা বিএলওদের কাজ নয়। অথচ নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যাঁদের ছ’টি সন্তান রয়েছে তাঁদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে। তাঁদেরও নোটিস পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত বদল না করলে রাজ্যজুড়ে বিএরওরা গণ ইস্তফা দেবেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা শান্তনু কোনার বলেন, কমিশন বিজেপিকে খুশি করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে এভাবে সমস্যায় ফেলতে পারে না। এদিন ভাতারে আমজনতা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এলাকার বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী জনসাধারণের প্রতিনিধি হিসাবে সেখানে ছিলেন। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত বদল না করলে লাগাতার আন্দোলন চলবে। বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, জেলায় অশান্তির পিছনে তৃণমূলের উস্কানি রয়েছে। কোথাও গণ্ডগোল হলে তার দায় শাসক দলকেই নিতে হবে। নিজস্ব চিত্র