নয়াদিল্লি: নাগরিকত্ব প্রমাণের বৈধ নথি কোনগুলি? এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনও জবাব নেই খোদ কেন্দ্রের কাছেই! লোকসভায় সম্প্রতি এবিষয়ে সুস্পষ্ট জবাব এড়িয়ে গিয়েছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার তা নিয়ে রীতিমতো তোপ দাগলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআরের নামে এই ‘ভোট চুরি’ আসলে ‘নাগরিকত্ব-চুরি’রই প্রথম পদক্ষেপ।
সম্প্রতি এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, আধার-ভোটার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তারপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, তাহলে নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথি কোনগুলি? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়ে সম্প্রতি লোকসভায় প্রশ্ন করেছিলেন সিপিএম সাংসদ সুদামা প্রসাদ। জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন, ভারতের নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের বিভিন্ন ধারা ও সেই আইনের অন্তর্গত বিধির মাধ্যমে। ওই আইনের ৩ নম্বর ধারায় নাগরিকত্ব মেলে জন্মসূত্রে। ৪ নম্বর ধারায় বংশানুক্রমে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু বিধির উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, সুনির্দিষ্ট কোনও নথির মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রমাণ হয় না। বিহারের এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক তরজার আবহে কেন্দ্রের এই জবাবে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল তুঙ্গে।
এই ইস্যুতে এদিন সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-ভোট চুরি কীভাবে আপনার নাগরিকত্ব হরণ করবে: নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথি কী, সম্প্রতি সংসদে তা জানাতে অস্বীকার করেছে মোদি সরকার। আধার, প্যান, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি নথিও প্রমাণ নয়। তাই, বর্তমান আইনে নাগরিকত্ব প্রমাণের একটিই রাস্তা।
বর্তমান আইন বলছে, আপনি যদি ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্মান, তাহলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে আপনি ভারতে জন্মেছেন। আপনি যদি ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্মান, তাহলে প্রমাণ দিতে হবে আপনি এবং আপনার মা-বাবার মধ্যে কেউ একজন ভারতে জন্মেছেন। আপনার জন্ম ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বরের পরে হয় তাহলে প্রমাণ দিতে হবে আপনার ও আপনার মা-বাবার জন্ম ভারতে হয়েছিল। জন্মের দিন ও স্থানের প্রাথমিক প্রামাণ্য নথি হল বার্থ সার্টিফিকেট। এক্ষেত্রে সমস্যা হল, ২০২২ সাল পর্যন্ত হাসপাতালে জন্মের হার ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ, গত ১০ বছরে জন্মানো প্রায় ২০ শতাংশ ভারতীয়ের বার্থ সার্টিফিকেট নেই। বর্তমানেই যদি এই অবস্থায় হয়, তাহলে অতীতের হার ভেবে দেখুন! কারণ সেই সময় হাসপাতালে জন্ম আরও অনেক কম ছিল। ফলে সামগ্রিকভাবে ধরে নেওয়া যায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভারতীয়ের বার্থ সার্টিফিকেট নেই। এখন আশঙ্কার বিষয় হল, নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ার অন্তর্গত হাতে গোনা কিছু নথির সাপেক্ষে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছে। এর অর্থ, ২৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়ে যেতে পারে।’