Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মানব শরীরে ক্যান্সার ওষুধের বাহক হবে রেশম মথের লালা, গবেষণায় সাফল্য বিজ্ঞানীদের, মিলেছে পেটেন্টও

মানবদেহে ক্যান্সার ওষুধের ক্যারিয়ার বা বাহক হবে রেশম মথের লালা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, রেশম মথের লালা থেকে তৈরি সিল্কে থাকা ফাইব্রোইন প্রোটিনের হাত ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল বা কোষে দ্রুত পৌঁছে যাবে ওষুধ।

মানব শরীরে ক্যান্সার ওষুধের  বাহক হবে রেশম মথের লালা, গবেষণায় সাফল্য বিজ্ঞানীদের, মিলেছে পেটেন্টও
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: মানবদেহে ক্যান্সার ওষুধের ক্যারিয়ার বা বাহক হবে রেশম মথের লালা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, রেশম মথের লালা থেকে তৈরি সিল্কে থাকা ফাইব্রোইন প্রোটিনের হাত ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল বা কোষে দ্রুত পৌঁছে যাবে ওষুধ। তাতে রোগীরা চটজলদি উপশম পাবেন বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। কীভাবে কাজ করবে এই ফাইব্রোইন প্রোটিন? গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশেষ ডিভাইসের মধ্যে ক্যান্সার ড্রাগের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে মানব দেহে ঢুকবে। ওষুধটিকে অনেক কম সময়ে পৌঁছে দেবে ক্যান্সার আক্রান্ত স্থানে। শুধু তাই নয়, ওই ডিভাইসের মধ্যে যাওয়ার সময় শরীরের সুস্থ কোষের উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। একমাত্র আক্রান্ত কোষকেই  টার্গেট করবে। তাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হবে। ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের উপর ডিভাইসটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করে সফল হয়েছেন। 

Advertisement

দেশ-বিদেশের তাবড় দশজন বিজ্ঞানী দিনরাত পরিশ্রম করে ওই বিশেষ ডিভাইসটি বানাতে সক্ষম হয়েছেন। রেশম মথের লালায় থাকা ফাই঩ব্রোইন প্রোটিন বিশেষ পদ্ধতিতে ন্যানোজেলে পরিণত হবে। সেটাই ক্যান্সার প্রতিরোধক ড্রাগের সঙ্গে মিশ্রিত হবে ডিভাইসে। তারপর সেটি ‌ই঩ঞ্জিনজেকশনের মাধ্যমে মানব দেহে প্রবেশ করানো হবে। ডিভাইসটির পেটেন্ট ভারত সরকারের কাছ থেকে পেয়েও গিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে ডিভাইসটির নাম দেওয়া হয়েছে,‘সিল্ক ন্যানোজেল ইনজেক্টর ডিভাইস ফর কন্ট্রোলড অ্যাণ্ড টার্গেটেড ড্রাগ ডেলিভারি’।
ওই দশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায়। কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কোলন ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করছেন। আতার বীজ থেকে পাওয়া নির্যাস যে ক্যান্সার মেডিসিন তৈরিতে কার্যকরী, তা তিনি গবেষণা করে প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ইন্দো-আমেরিকার গবেষকরা কোলন ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে কালমেঘ পাতা কতটা কার্যকরি হবে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন। সেই টিমেরও সদস্য তিনি। সদ্য তাঁর গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নালে। তিনি এদিন বলেন, ‘ওই ডিভাইসটি ক্যান্সার চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে। আমরা জোর দিয়েছিলাম, আমরা দেহে যে ক্যারিয়ার পাঠাচ্ছি, তা যেন কোনওভাবেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি না করে। প্রমাণ হয়েছে, আমাদের তৈরি ন্যানোজেল দেহে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। স্বাভাবিক নিয়মেই এই প্রোটিন ভেঙে নষ্ট হয়ে যাবে। ক্যান্সারের ওষুধ দেহে প্রবেশ করলে অন্য কোষগুলিকেও ক্ষতি করে। তাতে শরীরের নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে তা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, জার্নালে প্রকাশ করার পর ভারত সরকারের কাছে পেটেন্ট আবেদন করলে তা পেতে অনেক দেরি হয়। তখন আমাদের কাজকে অনুকরণ করে অন্যান্যরা সেই কাজ করতে থাকে। সেই কারণেই আগে আমরা পেটেন্ট করে নিলাম। যাতে আমাদের কাজের নিজস্বতা বজায় থাকে।’ এই গ঩বেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ওড়িশার বহরমপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্মলোচন হেমব্রম, ভুবনেশ্বরের সেনজেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবব্রত মোহান্তি ছাড়াও মেঘালয়ের বিজ্ঞানীরা। রয়েছেন ইরানের এক গবেষকও।
ক্যান্সার চিকিৎসায় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভয়ানক প্রভাব ফেলে মানব শরীরে। ফুসফুসে ক্যান্সার, ব্রেন ক্যান্সারের মতো বেশ কিছু ক্যান্সারের ড্রাগকে আক্রান্ত সেল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াই চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে চিকিৎসকদের কাছে। সেখানে পৌঁছনোর আগেই সুস্থ সেলকে আক্রমণ করে রোগীর জটিলতা আরও বাড়িয়ে দেয়। চুল পড়ে যাওয়া সহ নানা সমস্যা দেখা যায়। ওষুধ কাজ করতে অনেকটা সময় নেয়। ওই ক্যারিয়ার ডিভাইস সেই সমস্যা মেটাতে পারলে সুপ্রভাতবাবুদের গবেষণা যুগান্তকারী হয়ে উঠবে। নতুন ভেরের সূচনা করবে ক্যান্সার চিকিৎসায়।    

সম্পর্কিত সংবাদ