নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: যানবাহনের দৌরাত্ম্য লাগামহীন। যার জেরে পথ দুর্ঘটনা অব্যাহত। তা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাকশন কমিটি গড়ছে শিলিগুড়ি পুরসভা। তারা শহরের জনবহুল, বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে। এদিকে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে তিন ডজন সেতুর। অধিকাংশ জোরাপানি ও ফুলেশ্বরী নদীর উপর অবস্থিত। ভার বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সেতুগুলির পিলার, বিমে পড়ানো হচ্ছে কংক্রিটের জ্যাকেট। সংশ্লিষ্ট দু’টি প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যে পুরসভার বাজেটে দু’টি প্রকল্পই ঘোষণা করেছেন মেয়র গৌতম দেব।
উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যের মধ্যে ব্যস্ততম শহরগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি অন্যতম। এই শহরে যানবাহনের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় টোটো, অটো, ছোটগাড়ির দৌরাত্ম্যও বাড়ছে লাগামহীনভাবে। বসতি এলাকা দিয়ে চলাচল করছে ভারী যানবাহন। এমনকী, কিছু জায়গায় সন্ধ্যার পর বাড়ছে বাইক বাহিনীর দাপট। এতে শহরের ইস্টার্ন বাইপাস, ভক্তিনগর, এনজেপি, দেশবন্ধুপাড়া, হায়দারপাড়া, প্রধাননগর, চম্পাসারি সর্বত্রই দুর্ঘটনা বাড়ছে। এনিয়ে নাগরিকরা রীতিমতো আতঙ্কিত। এর মোকাবিলায় একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে পুরসভা।
মেয়র বলেন, শহরের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাফিক পুলিস, পুরসভা ও পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গঠন করা হবে অ্যাকশন টিম। ট্রাফিক পুলিসের পরামর্শে সংশ্লিষ্ট টিম গঠন করা হচ্ছে। টিমের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, পথ নিরাপত্তা বাড়াতে শহরের জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে স্পিড ব্রেকার ও হাইটবার বসানো হবে। ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচল রুখতে বসতি এলাকাতেও বসানো হবে হাইটবার। পুরসভার পূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে সমগ্র কাজকর্ম হবে। এজন্য ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছি।
অন্যদিকে, নদী বেষ্টিত এই শহরে সেতুর সংখ্যা অসংখ্য। দীর্ঘদিন আগে তৈরি সেতুগুলির একাংশ কার্যত বেহাল। এবার পুরসভা সেগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজে হাত দিয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, শহরের জোড়াপানি ও ফুলেশ্বরী নদীর উপরই প্রায় ৩৬টি সেতু রয়েছে। সুভাষপল্লি, ফুলেশ্বরী, ঘোগমালি বাজার সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় এগুলি রয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেগুলির কাঠামো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মাইক্রো কংক্রিট জ্যাকেটিং প্রক্রিয়ায় কিছু সেতুর ভারবহন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, কিছু সেতুর দুর্বল পিলার ও বিমে পড়ানো হয়েছে কংক্রিটের জ্যাকেট। এছাড়া, সেগুলির একাংশ কার্বন ফাইবারে মোড়ানো হচ্ছে।
মেয়র বলেন, সেতুগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলেন, শহরের ১৫ থেকে ৩৬ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেতুগুলি রয়েছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সেগুলির ভারবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।