সংবাদদাতা, বাগডোগরা: পরনে বিমান সংস্থার পোশাক। বিমানের সামনে দাঁড়িয়ে একখানা ছবি। খানিকটা ফিল্মি স্টাইলই বটে। এক লহমায় সেই ছবি আসল না ভুয়ো তা বোঝার উপায়ই নেই। এআই টেকনোলজির তৈরি সেই ছবি অনায়াশে ধোকা দিয়ে দিতে সক্ষম সাধারণ মানুষের চোখকে। এই কৌশল নিয়েই অনলাইন ডেটিং অ্যাপে হাইপ্রোফাইল যুবতীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার ছক কষে সিকিমের এক যুবক। সেই ভুয়ো ছবি যে এআই-দিয়ে তৈরি তা আঁচই করতে পারেননি যুবতীরা। নিজেকে কো-পাইলট পরিচয় দিয়ে করে গিয়েছে একের পর এক আর্থিক প্রতারণা। দিল্লির অনেক যুবতীকে আর্থিক প্রতারণা করে শিলিগুড়িতে এসেও একই ফাঁদ পেতেছিল ওই যুবক। তবে শেষ রক্ষা হল না। একই কৌশলে ডেটিং অ্যাপে ফাঁদ পেতে এক যুবতীর সাহায্যে প্রতারক হেমন্ত শর্মাকে (২৯)গ্রেপ্তার করল মাটিগাড়া থানার মেডিক্যাল ফাঁড়ির পুলিস।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, শিলিগুড়ির এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে আরও তথ্য উঠে আসছে। আর কোথায় কোথায় এই কায়দায় প্রতারণা করেছে তা তদন্ত হচ্ছে।
এআই টেকনোলজি ব্যবহার করে নিজের কো-পাইলটের ছবি বানায় অভিযুক্ত। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ও ডেটিং অ্যাপে সিদ্ধার্থ শর্মা নাম দিয়ে পোস্ট করে সিকিমের পাকিয়ংয়ের এই যুবক। পুলিসি তদন্তে গোটা বিষয়টি খোলসা হয়েছে। প্রথমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মহিলাদের টার্গেট করে ওই যুবক। যার মধ্যে বিমানের কেবিন ক্রু, নার্স ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যুবতীরা রয়েছে। এরপর ঘোরাঘুরি করা, হোটেলে যাওয়া এবং মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তাঁদের থেকে মোটা টাকা নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতো ওই যুবক।
শহরের বাসিন্দা পেশায় এক নার্স ৫মে পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন। ৭ মে মাটিগাড়া কদমতলা দুর্গামন্দির এলাকা থেকে ওই অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলে মেডিক্যাল ফাঁড়ির পুলিস। এজন্য এক যুবতীকে ডেটিং অ্যাপে ফিট করা হয়। সেই যুবতীর সঙ্গে ‘মিট’ করতে এলে অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিস। পুলিসের কাছে সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করেছে অভিযুক্ত।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দিল্লির গুরগাঁওয়ে একই অভিযোগ দায়ের রয়েছে। সেখানে প্রচুর যুবতীর সঙ্গে একই কায়দায় প্রতারণা করেছে যুবক। সবসময় নিজের ফোন নম্বর সুইচ অফ রেখে বিভিন্ন নামিদামী হোটেলে বসে, সেই হোটেলের ওয়াইফাই ব্যবহার করে এই ডেটিং অ্যাপ চালাত এই প্রতারক।
অভিযুক্ত হেমন্ত শর্মা ব্যাঙ্গালুরুতে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড কর্মী হিসেবে কাজ করেছিল কয়েকবছর আগে। সেজন্য বিমান পরিষেবা নিয়ে তার ধারণা ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেবিন ক্রুদেরও প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছিল যুবক। এদিকে ধৃতকে রিমান্ডে নিয়ে নিউচামটা মোড়, মেথিবাড়ি এলাকার একটি হোটেল থেকে ৪গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে পুলিস।
শনিবার পুলিস শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত হেমন্ত শর্মা বলে, প্রায় দেড় বছর ধরে এই প্রতারণা করছি। যুবতীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা ধার হিসেবে নিতাম। টাকার অঙ্ক বেশি হয়ে গেলেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিতাম। ধৃত যুবক। - নিজস্ব চিত্র।