Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সালানপুরে শ্যুট আউট, জওয়ানের মৃত্যু, চাঞ্চল্য

সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের ডোমদোহায় শ্যুট আউটের ঘটনায় ছড়াল তীব্র আতঙ্ক।

সালানপুরে শ্যুট আউট, জওয়ানের মৃত্যু, চাঞ্চল্য
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের ডোমদোহায় শ্যুট আউটের ঘটনায় ছড়াল তীব্র আতঙ্ক। বুধবার রাতে নিজের জমিতে‌ই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন সিআইএসএফের হেড কনস্টেবল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সুনীল পাসওয়ান (৪৫) বাড়ি ঝাড়খণ্ডের মিহিজাম এলাকায়। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল থেকে দু’টি সেভেন এমএম গুলির খোল উদ্ধার হয়েছে। 

Advertisement

কী কারণে এই খুন, তা নিয়ে পুলিস এখনও নিশ্চিত নয়। বোকারোতে কর্মরত ছিলেন এই জওয়ান। ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। ডোমদোহায় তিনি একটি জমি কিনে প্রাচীর দিয়ে রেখেছিলেন। মঙ্গলবারই জমিতে একটি বোরিং করান। বুধবার রাতে তিনি সেখানে আসতেই তাঁকে  লক্ষ্য‌ ক঩রে গুলি ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। কানের পাশে গুলি লাগে। জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় রাতে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন জওয়ান। সেই মতো খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয়। জমি সংক্রান্ত কোনও বিবাদের জেরেই এই ঘটনা হতে পারে বলে এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, এখানে নেশাড়ুদের উৎপাত রয়েছে। নেশা করা নিয়ে কোনও বিবাদের জেরেও এই ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। 
এসিপি জাভেদ হোসেন বলেন, সিআইএসএফ জওয়ানের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনার পিছনে একাধিক কারণ সামনে আসছে। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। 
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার ছুটিতে এসে বাড়ি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বুধবার রাতে বন্ধু পঙ্কজ শর্মাকে নিয়ে তিনি নিজের জমির দিকে রওনা দেন। জানা গিয়েছে, বন্ধুরা একসঙ্গে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করে। সেই মতো একটি দোকান থেকে এক কেজি মাংসও রান্না করে এনেছিলেন। বন্ধু ও তিনি পৃথক বাইকে ছিলেন। পঙ্কজের দাবি, ফোন আসায় তিনি কিছুটা পিছনে ছিলেন। সুনীল নিজের জমিতে যেতেই গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিস ঘটনাস্থলে হাজির হন। সেখানে থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করার পাশাপাশি দেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। এদিন সকালে পুলিস মৃতের বাড়িতে তদন্তে যায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। এলাকা সূত্রে দাবি, বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার এই এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় মদের আসর বসে। সামনের একটি বৈধ মদের দোকান থেকে মদ কিনে অবাধে সুরাপান চলে। নিজের জমিতে অন্যদের মদ খেতে দেখে কী প্রতিবাদ করেছিলেন সুনীল? সেই প্রশ্নও উঠছে। মৃতের বন্ধুর দাবি, গুলি চলার পরই একটি বাইককে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা যায়। পুলিস মদের দোকান ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সিসি ক্যামেরা দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।   ঘটনাস্থলে তদন্তে পুলিস।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ