নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: জমি থেকে আলু তোলা নিয়ে বিবাদের জেরে দুই পরিবারের সংঘর্ষ। বাড়ি ভাঙচুর। এমনকী শূন্যে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল। যদিও গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি। মঙ্গলবার রাতে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের সুখানি গ্রাম পঞ্চায়েতের চরিয়াপাড়ার এ ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সংঘর্ষে দু’পক্ষের চারজন জখম হন। এর মধ্যে একজন জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে গুলি চালানোর অভিযোগে আব্দুল খালেক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার বন্দুকটি।
ঘটনার জেরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকায় পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে রাজগঞ্জ থানায়। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিস সুপার খণ্ডবাহলে উমেশ গণপত। তাঁর দাবি, দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদের জেরে ঘটনাটি ঘটে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছে শাসক ও বিরোধী দু’পক্ষই।
এদিকে, পুলিসের হাতে গ্রেপ্তারের পর প্রশ্নের উত্তরে ধৃত আব্দুল খালেক শূন্যে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করে নেন। বলেন, আমার বাড়িতে ২৫-৩০ জন হামলা চালায়। দু’রাউন্ড শূন্যে গুলি চালিয়েছি আমি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, জমি থেকে আলু তোলা এবং সেই আলু গাড়িতে বোঝাই করে কোন জমির উপর দিয়ে নিয়ে আসা হবে তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ঝামেলা চলছিল রহমান আলি ও আব্দুল খালেকের পরিবারের মধ্যে। মঙ্গলবার রাতে তা চরমে ওঠে। এরপরই দুই পরিবারের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। ফলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শুরু হয় বাড়ি ভাঙচুর।
রহমানের পরিবারের দাবি, ঝামেলা চলাকালীন আব্দুল খালেক আচমকা বন্দুক বের করে দু’রাউন্ড গুলি চালায়। কপালজোরে কারও গায়ে লাগেনি ওই গুলি। নতুবা আরও বড় ঘটনা ঘটতে পারত। যদিও অপরপক্ষের হামলায় তাদের দু’জন জখম। এরমধ্যে একজনকে চা গাছ প্রুনিংয়ের কাঁচি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সে হাসপাতালে ভর্তি।
অন্যদিকে, খালেকের পরিবারের দাবি, রহমান আলির বাড়ির লোকজন দলবল নিয়ে আচমকা হামলা চালায়। তাদের চারটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে। আত্মরক্ষার্থে নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে শূন্যে দুই রাউন্ড গুলি চালায় খালেক। কিন্তু অপরপক্ষের কাছে লাইসেন্সবিহীন পিস্তল ছিল। তা থেকেও গুলি চালানো হয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রহমানের পরিবার। তাদের বক্তব্য, খালেক যে গুলি চালাচ্ছে, তার ভিডিও রয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলছে ওরা, তার প্রমাণ দিক। পুলিস প্রশাসন তদন্ত করলেই সবটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।