সংবাদদাতা, বেলদা: প্রায় তিন মাস আগে বেলদা থানার ত্রিকালপুর এলাকায় এক গৃহবধূর পচাগলা ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছিল আত্মহত্যার তত্ত্ব। পরে ঘটনার তদন্তে নেমে উঠে আসে হাড়হিম করা খুনের কাহিনি। ধর্ষণ করে খুনকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়। এমনকী, প্রমাণ লোপাটে অ্যাসিডও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যুবক সহ পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের মধ্যে এক মহিলাও রয়েছেন। রবিবার ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে বেলদা থানার পুলিস। তদন্ত শেষে আজ, সোমবার তাদের দাঁতন আদালতে পেশ করা হবে।
গত ১৩মে থেকে বেলদা থানার মান্না পঞ্চায়েতের কেশবচক এলাকা থেকে ওই গৃহবধূ নিখোঁজ হয়ে যান। ১৬মে পাশের ত্রিকালপুর গ্রামে রাস্তা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মাঝমাঠে তাঁর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতার গলায় শাড়ির একটি অংশ জড়ানো ছিল। যার অপর অংশ গাছের ডালে বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে অনেকের মনে হয়েছিল এটি আত্মহত্যার ঘটনা। পরে মৃতার স্বামী বেলদা থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিস জানতে পারে, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা নয়। ধীরেধীরে তদন্তের জাল গোটাতে শুরু করে পুলিস। মাসখানেক আগে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা অঞ্জয় মাণ্ডিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জেরা করতে থাকে পুলিস। জেরায় ভেঙে পড়ে সে ঘটনায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে। তার সূত্র ধরে এক মহিলা সহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের নাম জোসেফ সিং, মঙ্গল সিং, শিশির সিং ও হীরা মুর্মু। ধৃত জোসেফই মূল অভিযুক্ত।
তদন্তে উঠে আসে পরকীয়ার তত্ত্ব। কর্মসূত্রে বাইরে থাকতেন মৃতার স্বামী। সেই সুযোগে গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে মূল অভিযুক্ত জোসেফ। কিন্তু সম্পর্কে ফাটল ধরে। আরও এক যুবকের সঙ্গে ওই গৃহবধূ সম্পর্কে জড়ান। পুলিস জানিয়েছে, জোসেফই তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে ওই গৃহবধূকে খুন করেছে। অন্য একজনের সঙ্গে ওই বধূর সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি সে। সেকারণেই শ্বাসরোধ খুন করে সে। খুনের আগে ধর্ষণও করা হয় বলে অভিযোগ। খুনের পর মৃতদেহ লোপাট করতে বাকি চারজনকে ডেকে সাহায্য নেয় জোসেফ। ১৩মে রাতে পাঁচজন মিলে মৃতদেহ ত্রিকালপুর এলাকায় নিয়ে যায়। আত্মহত্যার ঘটনা বলে সাজাতে গলায় শাড়ির ফাঁস লাগিয়ে গাছে দেহ টাঙানো হয়।
প্রমাণ লোপাটে মৃতদেহের উপর ঢালা হয় অ্যাসিড। ধরা পড়ার পর থেকে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে বারবার অসুস্থতার নাটক করতে থাকে জোসেফ। ফলে বেগ পেতে হয় তদন্তকারীদের। শেষমেষ ধৃত পাঁচজনকে একসঙ্গে বসিয়ে জেরা করায় সব তথ্য উঠে আসে। এদিন ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। প্রমাণ লোপাটে ব্যবহৃত অ্যাসিডের বোতলও উদ্ধার হয়। আজ, সোমবার তদন্ত শেষে ধৃতদের আদালতে পেশ করবে পুলিস।