রাঘব জুয়াল: ২০১৩-১৪ সালে ফারহা ম্যাম (খান) আমাকে প্রথম শাহরুখ স্যারের সঙ্গে আলাপ করিয়েছিলেন। প্রথমবার ওঁর ব্যক্তিত্ব, স্টাইল দেখে আমি পুরোপুরি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। ভিতর থেকে নড়ে গিয়েছিলাম। সেদিন মনে মনে ভেবেছিলাম, আমাকেও এরকমই হতে হবে। উনি এত বছর ধরে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন, এটাই বড় কথা। আজকের প্রজন্মের কাছেও শাহরুখ স্যার ‘আইকন’। প্রথম সাক্ষাতেই শাহরুখ স্যার আমার হৃদয়ে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছিলেন। ওঁনার মতো ব্যক্তিত্বের মানুষ আমি আর দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি। ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’-এ আমার কাজ দেখে শাহরুখ স্যার আমাকে ওঁনার পরবর্তী প্রজেক্ট ‘কিং’-এ সুযোগ দিয়েছেন। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার, উনি আমাকে বোঝেন, আমার উপর ভরসা করেন। স্যার জানেন, আমি কোথা থেকে উঠে এসেছি আর কীভাবে কাজ করছি। ওঁনার জার্নিও অনেকটা এরকমই ছিল। তাই আমাকে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারেন তিনি। বলতে পারেন, ওঁনার থেকে আমি সবকিছু শিখেছি। আমি শাহরুখ স্যারকেই আমার মেন্টর হিসেবে মানি। ক্রমাগত শিখতে থাকি। ছোটো থেকে বড়ো—সকলকে যেভাবে সম্মান দেন, সেটাও শেখার মতো। ২৪ ঘণ্টা উনি সেটে থাকেন। অন্যের প্রয়োজন পড়লে স্যার সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শাহরুখ স্যারের সঙ্গে একটা দৃশ্য করছিলাম। সেটে চারিদিকে সকলে হাততালি দিচ্ছিলেন। উনি এগিয়ে এসে আমাকে আলিঙ্গন করে মাথায় চুমু খান। আর বলেছিলেন ‘ভেরি গুড’। সবচেয়ে ভালো লেগেছিল যে শাহরুখ স্যারের মধ্যে সামান্যতম ইনসিকিউরিটি নেই। অত বড়ো তারকা হয়েও উনি কখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না। অনেক বড়ো তারকাকে দেখেছি যে, অন্য কারও দৃশ্য ভালো হলে তিনি সেটা বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু শাহরুখ স্যার এই ব্যাপারে একদম উল্টো। উনি অন্য সকলকে সুযোগ দেন। ভালো অভিনেতাকে কদর করতে জানেন। কেউ ভালো কাজ করলে ওঁর মুখে প্রশংসা ঝরে পড়ে।
প্রায় তিন বছর হল, আমি আরিয়ান, শাহরুখ স্যার আর খান পরিবারের কাছাকাছি এসেছি। ওঁদের সকলকে কাছ থেকে দেখেছি। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে, শাহরুখ স্যার আর গৌরী ম্যাম আরিয়ান, সুহানাকে ভীষণই শিষ্টাচার এবং সুশিক্ষার সঙ্গে বড় করেছেন। সত্যি বলতে আরিয়ানদের বাড়ির পরিবেশ অত্যন্ত ঘরোয়া। বাড়ির ভিতরে ওঁরা আর পাঁচটা সাধারণ পরিবারের মতোই। ওঁদের বাড়িতে গেলে নিজেকে কখনও বাইরের কেউ বলে মনে হয় না। আসলে শাহরুখ স্যার, আরিয়ান—এঁরা প্রত্যেকেই ভীষণই আন্তরিক। এমনকি গৌরী ম্যাম-ও তাই। ওঁদের বাড়িতে যখনই যেতাম, গৌরী ম্যাম আগে খেতে বলতেন। উনি বলতেন, ‘আগে খাওয়া, পরে কাজ।’ ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’ সিরিজের শ্যুটিং চলাকালীন প্রায়শই আমরা সবাই ‘মন্নত'-এ গিয়ে হইহুল্লোড়, পার্টি করতাম। ওঁদের আতিথেয়তার কথা কারও অজানা নয়। সবসময় আমাদের জন্য ভুরিভোজের আয়োজন থাকত। আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো ওই বাড়ির পরিবেশ। শাহরুখ স্যার আর গৌরী ম্যাম সবসময় বাড়ির মধ্যে একটা সাংস্কৃতিক আবহ বজায় রাখতেন।
শাহরুখ স্যারের সঙ্গে আরিয়ানের অনেক মিল আছে। স্যারের মতোই ও ভীষণ বিনয়ী। সকলকে সমান সম্মান দিতে জানেন আরিয়ান। স্যারের মতোই ও মাটিতে পা রেখে চলা একজন মানুষ। এখন আরিয়ান আমার খুব ভালো বন্ধু। সেটে আমরা অনেকে সমবয়সি ছিলাম। তাই হাসি, ঠাট্টা, আড্ডা মেরে আমাদের দারুণ সময় কাটত। আর ব্যক্তি হিসেবেও আরিয়ান দুর্দান্ত। একেবারে বিন্দাস। শুধু তাই নয়, একজন ভীষণ নম্র এবং সিধেসাদা ভালো মানুষ।
অনুলিখন : দেবারতি ভট্টাচার্য



