Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতের হামলায় খুশি শহিদ ঝন্টুর পরিবার

পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতের হামলায় খুশি শহিদ ঝন্টুর পরিবার
  • ৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: পাকিস্তানের উপর এয়ার স্ট্রাইক হওয়ায় খুশি শহিদ ঝন্টু আলি শেখের পরিবার। মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের মধ্যে ন’টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। বুধবার সকালে এই খবর টিভিতে দেখার পর খুশি শহিদের বাবা, স্ত্রী, দাদা সহ গ্রামের লোকজন। তাঁদের দাবি, এখানেই থামলে চলবে না। সমস্ত জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কোনও জঙ্গির সাহস না হয় ভারতে হামলা চালানোর। 

Advertisement

এদিন সকালে তেহট্ট থানার পাথরঘাটা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় সব জায়গায় খুশির হাওয়া। শহিদ ঝন্টু আলি শেখের বাবা বলেন, ভারতীয় সেনার এই পদক্ষেপে আমরা খুশি। এতদিন পর আমার ছেলের আত্মা শান্তি পেয়েছে। সকাল থেকেই টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিল পরিবার। জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের ছবি দেখে তাঁদের জবাব, অবশেষে সেনাবাহিনী প্রত্যাঘাত করল। শহিদের দাদা রফিকুল শেখ সেনাবাহিনীতে সুবেদার পদে কর্মরত। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনা বাহিনীকে স্যালুট। যারা নিরীহ পর্যটকদের গুলি করে মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে বদলা নিতে গিয়ে ভাই শহিদ হয়েছে। আজ ভারতীয় সেনা বাহিনী সেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বদলা নিয়েছে। এই খবরে আমি যেমন খুশি তেমনই খুশি আমাদের পরিবার। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে সারা ভারতের মানুষ, সকলেই খুশি। তিনি বলেন, আমি সেনা বাহিনীর একজন জওয়ান। আমাদের কাছে দেশ আগে। তাই এই পরিস্থিতিতে যদি আমাকে ডেকে পাঠানো হয় আমি অবশ্যই পৌঁছে যাব। 
ওই এলাকার বাসিন্দা প্রাক্তন সেনা জওয়ান সাহাবুদ্দিন মণ্ডল বলেন, আজ সত্যিই খুব খুশির দিন। আরও খুশি হব সব জঙ্গি ঘাঁটি যদি সেনাবাহিনী গুঁড়িয়ে দিতে পারে। প্রসঙ্গত, এবছর এপ্রিল মাসের ২২ তারিখ পহেলগাঁও এলাকায় পর্যটকদের উপর আচমকা গুলি চালায় জঙ্গিরা। তাতে ২৬ জন পর্যটকের প্রাণ যায়। 
জঙ্গিদের খুঁজতে কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে সেনাবাহিনী। গত ২৪ এপ্রিল তল্লাশির সময় উধমপুর সেক্টরে সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের গুলির লড়াইয়ে শহিদ হন ঝন্টু আলি শেখ। তিনি ৬ প্যারাশুট রেজিমেন্টের স্পেশ্যাল ফোর্সের হাবিলদার ছিলেন। তাঁর মৃতদেহ গত ২৬ এপ্রিল পাথরঘাটা গ্রামে পৌঁছয়। 
সেদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহিদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ও পরিবারের একজনকে চাকরি দেবেন বলে ঘোষণা করেন। সেই মতো মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের সুতিতে এক জনসভায় শহিদের স্ত্রী শাহনাজ পারভিনকে চেক ও হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পূরণে খুশি এলাকার বাসিন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ