Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাবার সঙ্গে ঠেলাগাড়িতে পুরি-সব্জি বিক্রি, উচ্চ মাধ্যমিকে ৭২ শতাংশ নম্বর পেয়ে চমক আনন্দর

বাড়িতে অভাব। তাই বাবার সঙ্গে পুরি-সব্জির দোকান চালাতে হয় আনন্দ সেনকে। উচ্চ মাধ্যমিকের আগেও এর অন্যথা হয়নি

বাবার সঙ্গে ঠেলাগাড়িতে পুরি-সব্জি বিক্রি, উচ্চ মাধ্যমিকে ৭২ শতাংশ নম্বর পেয়ে চমক আনন্দর
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বাড়িতে অভাব। তাই বাবার সঙ্গে পুরি-সব্জির দোকান চালাতে হয় আনন্দ সেনকে। উচ্চ মাধ্যমিকের আগেও এর অন্যথা হয়নি। কিন্তু হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনায় ছেদ পড়তে দেয়নি জলপাইগুড়ির সেনপাড়ার বাসিন্দা আনন্দ। দিনে দোকানে সময় দিতে হওয়ায় রাত জেগে পড়েছে সে। আর এতেই এসেছে সাফল্য। ৭২ শতাংশ নম্বর পেয়ে কার্যত তাক লাগিয়ে দিয়েছে জলপাইগুড়ির সোনাউল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ওই ছাত্র। তার প্রাপ্ত নম্বর ৩৬৩।

Advertisement

জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের সামনে ঠেলাগাড়িতে পুরি-সব্জি বিক্রি করেন আনন্দর বাবা প্রেমানন্দ সেন। সকাল সাতটায় দোকান খোলে। চলে বিকেল পর্যন্ত। বাবাকে সাহায্য করতে রোজ সকালে পুরি-সব্জির দোকানে চলে আসে আনন্দ। স্কুল থেকে সবুজসাথীর সাইকেল পেয়েছে সে। বাড়ি থেকে দোকানে আসা-যাওয়ার জন্য সেটাই ভরসা। চোখে একরাশ স্বপ্ন আনন্দর। উচ্চ শিক্ষিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে চায় সে। কিন্তু পড়াশোনার যা খরচ, কতদূর এগনো সম্ভব, সেই চিন্তা সবসময় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তাকে।
উচ্চ মাধ্যমিকে আনন্দর প্রাপ্ত নম্বর বাংলায় ৭৭, ইংরেজিতে ৯১, পদার্থবিদ্যায় ৫০, রসায়নে ৬৫, বায়োলজিতে ৮০। দুই ভাই-বোনের মধ্যে আনন্দ বড়। বোন সুদীপ্তা নবম শ্রেণিতে পড়ে। মা সুজাতা সেন গৃহবধূ।
আনন্দর সংগ্রামকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তার স্কুলের শিক্ষকরা। ছেলের সাফল্যে খুশি প্রেমানন্দ সেনও। তিনি বলেন, ছেলে দিনে আমাকে দোকানে সাহায্য করে উচ্চ মাধ্যমিকের আগে আনন্দ রাত জেগে পড়েছে। ওর জন্য আমি গর্বিত। মা সুদীপ্তা সেন বলেন, যত কষ্টই হোক, ছেলে যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, আমাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ