Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪৩ হাজার উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা শীঘ্র

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নদীয়া জেলার ৪৩ হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ঢুকবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা।

৪৩ হাজার উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা শীঘ্র
  • ১৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নদীয়া জেলার ৪৩ হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ঢুকবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের অন্দরে শুরু হয়েছে তোড়জোড়।‌ প্রাথমিকভাবে বাড়ি তৈরির প্রথম ধাপের কাজ যাঁরা শেষ করতে পেরেছেন, তাঁদেরই এই টাকা দেওয়া হবে। সেই মতো উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর পুনরায় যাচাই করে দেখা হচ্ছে। যাতে প্রকৃত উপভোক্তারাই বাংলার বাড়ির টাকা পান। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার ৯৩ শতাংশ উপভোক্তা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার যোগ্য।‌ এখনও জেলার তিন হাজারের বেশি উপভোক্তা বাড়ি তৈরির প্রথম ধাপের কাজ শেষ করে উঠতে পারেননি। নদীয়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, নদীয়া জেলার সিংহভাগ উপভোক্তাই বাড়ির তৈরির প্রথম ধাপ সম্পূর্ণ করেছেন। তাঁরা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার যোগ্য। টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। যাঁরা এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি, তাঁদের শোকজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফেও ভিজিট করা হচ্ছে। বাড়ি তৈরি করতে না পারায় কেউ কেউ টাকা ফিরিয়েও দিচ্ছেন।
বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকে দেওয়া শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী সেই টাকা দিয়ে ঘরের লিন্টেল পর্যন্ত তৈরির কথা। ‌প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৪৩৮জন উপভোক্তা। তাঁদের মধ্যে দরজা পর্যন্ত প্রথম ধাপের বাড়ি করে ফেলেছেন ৪৩ হাজার ১৩৩জন উপভোক্তা।
উল্লেখ্য, বাড়ি তৈরির নিরিখে রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে নদীয়া জেলা। চলতি মাসেই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠানোর ঘোষণা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‌কেন্দ্রের মোদি সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পের টাকা দেয়নি। সেই জায়গায় রাজ্যের নিজস্ব খরচে প্রান্তিক মানুষদের জন্য বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার‌। এক একজনকে দেওয়া হচ্ছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক বলেন, বেশকিছু উপভোক্তার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সমীক্ষার সময় জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সঠিক থাকলেও বাস্তবে বাড়ি নির্মাণ শুরু করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। পারিবারিক অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং জমির মালিকানা নিয়ে মতবিরোধের কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক উপভোক্তা স্বেচ্ছায় প্রকল্পের টাকা ফেরত দিচ্ছেন। 
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মোট ১ লক্ষ ৮১ হাজার আবেদনকারীকে নিয়ে একটি সমীক্ষা হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, এই তালিকার মধ্যে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার উপভোক্তার নাম প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় রয়েছে। সেই তালিকা থেকে রাজ্য সরকারের অনুমোদনে প্রাথমিকভাবে ৫১ হাজার জন উপভোক্তার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বাকি ১ লক্ষ ১৮ হাজার আবেদনকারীকে পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত নদীয়া জেলার ৪৬ হাজার উপভোক্তাকে প্রথম ধাপে বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নাকাশিপাড়ার এক উপভোক্তা বলেন, বাড়ির কাজ অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। দ্বিতীয় দফার টাকা পেলে বাড়ির কাজ শেষ করতে পারব। তাতে অনেকটাই সুবিধা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ