Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্কুলে স্কুলে বাড়বে প্রচার, মিড ডে মিল খেতেও উৎসাহ দিন আর্জি কর্তাদের

মিড ডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্পে নানা খামতি, অপর্যাপ্ত বরাদ্দের অভিযোগ নতুন নয়। তবে, আরও একটি সমস্যা ভাবাচ্ছে প্রকল্প পরিচালনায় নিযুক্ত আধিকারিকদের।

স্কুলে স্কুলে বাড়বে প্রচার, মিড ডে মিল খেতেও উৎসাহ দিন আর্জি কর্তাদের
  • ১৬ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: মিড ডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্পে নানা খামতি, অপর্যাপ্ত বরাদ্দের অভিযোগ নতুন নয়। তবে, আরও একটি সমস্যা ভাবাচ্ছে প্রকল্প পরিচালনায় নিযুক্ত আধিকারিকদের। আর সেটা হল মিড ডে মিল খেতে পড়ুয়াদের একাংশের অনীহা। এই কারণে অনেক সময় খাবার অপচয় হয় তো বটেই। আবার অন্য সমস্যাও রয়েছে। পরিসংখ্যানগত ভাবে ‘মিড ডে মিল কভারেজ’ কমে যায় রাজ্যে। এ নিয়ে কিছুদিন আগেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। তাই, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেদের সন্তান এবং ছাত্রছাত্রীদের মিড ডে মিল খেতে উৎসাহ দেবেন।

Advertisement

আধিকারিকরা বলছেন, মিড ডে মিলে অনীহা বেশি শহরাঞ্চলেই। জেলার বর্ধিষ্ণু এলাকাতেও এই ছবি দেখা যায়। সম্পন্ন অভিভাবক ছেলে বা মেয়েকে টিফিন দিয়ে দেন। ফলে অনেক সময় ইচ্ছে থাকলেও লাইন দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে হইহই করে মিড ডে মিল খাওয়া হয় না তাদের। শিক্ষকরাও এ নিয়ে বেশি জোরাজুরি করতে চান না। তবে, আধিকারিকরা বলছেন, অল্পস্বল্প টিফিন দেওয়াই যায়। তবে, কিছুটা পুষ্টি মিড ডে মিল থেকেও নিক পড়ুয়ারা। কেক, নুডলস, চাউমিন বা অন্যান্য ফাস্টফুডের চেয়ে মিড ডে মিলের খাবারে পুষ্টিগুণ বেশি। ক্ষতিও নেই। সবচেয়ে বড় কথা, একসঙ্গে একই খাবার খেলে ‘ফেলো ফিলিংস’ তৈরি হয়। সেটা নিজের নিজের টিফিন বাক্স থেকে খাবার খেলে ততটা তৈরি হয় না।

সল্টলেকের মেয়েদের একটি নামী স্কুলেও একই সমস্যা ছিল। তবে, সচেতনতা বাড়িয়ে সেখানে সুফল মিলছে বলেই দাবি মিড ডে মিল কর্তাদের। সেখানে আরও বেশি ছাত্রী মিড ডে মিল খেতে শুরু করেছে। তাঁরা বলছেন, অনেকেই ভাবেন, তাঁর ছেলে বা মেয়ে মিড ডে মিল না খেলে বাড়তি একটি বাচ্চা খাবার পাবে। মিড ডে মিলের হিসেব এভাবে হয় না। প্রত্যেক স্কুলকেই প্রতিদিন জানাতে হয়, কত পড়ুয়া খাবার খেল। সেই অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ হয় স্কুলগুলিতে। যেখানে কমিউনিটি কিচেন থেকে খাবার আসে, সেখানেও এভাবেই হিসেব করা হয়।

একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, বাম আমল থেকে তৃণমূল আমল, বরাবরই জনসভায় সাধারণ মানুষের শ্রেণিভোজন নিয়ে ঠাট্টা হয়। একসময়ের মাছ ভাত এখন ‘ডিম্ভাত’ হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলের বড় উপাদানও হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে কিছু মানুষের মনোভাব একই থেকে গিয়েছে। ভারতীয় ও বাঙালি সংস্কৃতিতে জড়িয়ে থাকা কাঙালিভোজন, বালকভোজন, লঙ্গরখানা প্রভৃতিকে তথাকথিত ভদ্রসমাজ কখনওই সুনজরে দেখে না। সেসবের অংশও হতে চায় না। বর্তমানের মিড ডে মিল সিস্টেমও একই সমস্যার সম্মুখীন। ‘খিচুড়ি স্কুল’ বলা থেকে শুরু করে নানা ব্যাঙ্গবিদ্রুপ করে ফলদায়ী ব্যবস্থাটির ক্ষতি করার চেষ্টা বরাবরই হয়েছে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ