নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: সামনেই রামনরবমী। তার আগেই চাঁদার ‘জুলুম’ শুরু হল ঝালদায়। যার জেরে বন্ধ হওয়ার মুখে ঝালদা স্টেশন পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়! স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্কুলের নিজস্ব ভবন নেই। স্থানীয় একটি কমিউনিটি হলে তা চলে। কমিউনিটি হলটি পরিচালনা করে স্থানীয় একটি ক্লাব। সেই ক্লাবের কর্তাদেরই হুমকি, রাম নবমী উপলক্ষ্যে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। না হলে এই কমিউনিটি হল থেকে স্কুল সরিয়ে নিন। ঘটনায় মহা ফাঁপরে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষক থেকে পড়ুয়ারা! এনিয়ে ঝালদা-৩ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
১৯৮১ সালে পথচলা স্টেশনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই স্কুলের নিজস্ব কোনও ভবন নেই। একটি পুরনো ভাড়া বাড়িতেই চলত। সেই পুরনো বাড়িটি ভেঙে পড়ে। তারপর স্কুলটি এই কমিউনিটি হলে সরিয়ে আনা করা হয়। কমিউনিটি হলটি অবশ্য এমএলএ ফান্ডের টাকায় তৈরি। যদিও তার দেখভাল করেন স্থানীয় ‘দাদা’রা। তাঁদেরই বিরুদ্ধে জুলুমের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই স্কুলের পড়ুয়া সংখ্যা ১৮জন। তবে স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ক্লাবের মাতব্বররা। কমিউনিটি হলের যে ঘরে ক্লাস হয়, সেই ঘর তালাবন্ধ করতে দেওয়া হয় না। স্কুলের সময় শেষ হলে তা ক্লাবের ছেলেদের আড্ডাস্থাল হয়ে ওঠে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন বাগচী বলেন, পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে কমতে একসময় মাত্র চারজনে এসে ঠেকেছিল। গত বছর সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চার থেকে পড়ুয়া সংখ্যা আঠারোয় নিয়ে এসেছি। কিন্তু, যা উত্পাত শুরু হয়েছে, কতদিন স্কুল চালিয়ে নিয়ে যেতে পারব, সেই নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মিড ডে মিলের চাল থেকে শুরু করে অন্যান্য সামগ্রী রাখতে পারি না। তা রাখতে হয় পাশের একটি দোকানে। একটি আলমারি ছিল। তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে জরুরি কাগজপত্র এসআই অফিসে রাখতে হয়। এখন শুরু হয়েছে চাঁদার জুলুম। কমিউনিটি হলে স্কুল চললেও কোনও ভাড়া দেওয়া হয় না স্কুলের তরফে। তাই আসন্ন রামনবমী উপলক্ষ্যে ১৫হাজার টাকা চেয়েছে। কীভাবে দেব? বিষয়টি এসআইকে জানিয়েছি।
এনিয়ে ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউই নিজেদের পরিচয় সামনে আনতে নারাজ। এক ক্লাব কর্তার কথায়, এত বছর ধরে স্কুল চলছে, বাৎসরিক ভাড়া তো দিতেই হবে। ভাড়া না দেওয়ায় আমরা রাম নবমী উপলক্ষ্যে চাঁদা চেয়েছিলাম।
উল্লেখ্য, একই সমস্যা তৈরি হয়েছিল ঝালদার-৩ নম্বর ওয়ার্ডের গড়কুলি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। স্কুলের নিজস্ব ভবন না থাকার কারণে স্কুলের ঠিকানা হয়ে উঠেছিল স্থানীয় কমিউনিটি হলে। তবে সেই ক্ষেত্রেও ক্লাবের দাদারা সরস্বতী পুজোর চাঁদা চেয়েছিল। দাবি মতো ‘চাঁদা’ দিতে না পারায় স্কুলটি তুলে দেওয়া হয় তারপর। স্কুলের বর্তমান ঠিকানা এসআই অফিসের কার্যালয়। এনিয়ে এসআই সিদ্ধার্থ মাহাত বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি, তাঁরা পদক্ষেপ করবেন।