নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভুয়ো ই-চালান দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে বালি পাচারের অভিযোগে দু’টি ট্রাক বাজেয়াপ্ত করল জেলা পুলিসের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। লম্বোদপুর ও খটঙ্গার মাঝ বরাবর এলাকায় শনিবার গভীর রাতের অভিযানে বাজেয়াপ্ত করা ট্রাক দু’টি সিউড়ি থানার পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বালি পাচারের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তারা ভুয়ো ই-চালানের পাশাপাশি আরও একাধিক তথ্য জানতে পেরেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হয়েছে, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঘাট থেকে বালি তুলে তা পাচার করা হচ্ছিল। এবিষয়ে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ডিএসপি স্বপনকুমার চক্রবর্তী বলেন, একনজরে ওই ই-চালান দেখে বোঝা সম্ভব নয় সেটি ভুয়ো। তবে তাতে অনেক তথ্যে গরমিল রয়েছে। সেসব তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি সামনে এসেছে। এই ঘটনায় বালিবোঝাই ট্রাক পিছু এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হবে। পাশাপাশি ট্রাকের চালকদের নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই বালি পাচার রুখতে জেলা পুলিস, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও প্রশাসন বহু আগেই আসরে নেমেছে। সারপ্রাইজ ভিজিট থেকে শুরু করে নাকা তল্লাশির পরও এখনও পর্যন্ত বালি পাচারে পুরোপুরি রাশ টানা সম্ভব হচ্ছে না। পাচারকারীরা পুলিস ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তাদের চোখে ধুলো দিতে ভুয়ো ই-চালান বানাতে শুরু করেছে। ঘটনায় তদন্তে নেমে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তারা জানতে পারেন, খটঙ্গায় ময়ূরাক্ষীর ৭ নম্বর নদীঘাট থেকে বালি তোলা হয়েছিল। যদিও চলতি বছরের মার্চ মাসের ৩০ তারিখ সেই ঘাটের লিজের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই স্পষ্ট, ময়ূরাক্ষী নদী থেকে অবৈধ উপায়ে বালি তোলার কারবার এখনও বন্ধ হয়নি। রাতের অন্ধকারে এখনও চুপিসারে অবৈধভাবে বালি তোলার কাজ চলছে। ঘটনায় পুলিসের চিন্তা বাড়ছে।
এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের তরফে জানা গিয়েছে, ওই বালি নদীয়ার কৃষ্ণনগরে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় ট্রাক মালিকরা বালি পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। বারকোড, সিরয়াল নম্বর নকল করে আসল চালানের মতো দেখতে ভুয়ো ই-চালান বানানো হচ্ছে। কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা বানানো হচ্ছে। জেলার অন্যান্য প্রান্তে অজয় ও ময়ূরাক্ষীর নদী ঘাট থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে অভিযান শুরু করতে চলেছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ বাজেয়াপ্ত করল ট্রাক। -নিজস্ব চিত্র