সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দশকের পর দশক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে চলেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিকট কালী পুজো। এই বিকট কালীর পোশাক তৈরির গুরু দায়িত্ব সামলাতে হয় খালেক দর্জিকে। কালীর পোশাকের পাশাপাশি কয়েকশো চামুণ্ডার পোশাক তৈরি করেন খালেকুল দেওয়ান। তাঁর পূর্বপুরুষরা বহু বছর ধরে নিষ্ঠা সহকারে ঠাকুরানীর পোশাক তৈরি করে চলেছেন। হিলির ত্রিমোহিনীতে বিকট কালীর পুজোয় কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।
আগামী ৬ এপ্রিল রীতি মেনে পুজোর ঘট বসানো হবে। ১৪ এপ্রিল পুজো। পুজোকে কেন্দ্র প্রায় ৭ হাজারের বেশি ভক্ত নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে বেতের লাঠি নিয়ে ঘট বসানো থেকে ৫ দিন খালি পায়ে উপবাস করে থাকেন।
এই পাঁচ দিন বিভিন্ন জায়গায় ভক্তরা ঘুরে ঘুরে মুখা পরে চামুণ্ডা নাচ পরিবেশন করেন। এই ভক্তরা লাল-কালো রঙের বিশেষ ডিজাইনের পোশাক পরেন। সেই পোশাক তৈরি করেন খালেক দর্জি। পুজোর দিন চামুণ্ডা নৃত্য হয়ে থাকে। যার পোশাক তৈরি করেন খালেকুল দেওয়ান।
ত্রিমোহিনীর কিশমতদাপটের বাসিন্দা খালেকুল দেওয়ানের বাবা দৌলত আলি দেওয়ান ও জ্যেঠু সমর আলি দেওয়ান দর্জির কাজ করেন। তাঁরা আগে এই ঠাকুরানির পোশাক তৈরি করতেন। এখন পোশাক তৈরি করেন খালেক দর্জি। ত্রিমোহীনি বাজারে তাঁর ছোট দোকান রয়েছে। জ্যেঠুর মৃত্যুর পরে ৬ বছর ধরে খালেক এই কাজ করছেন।
দাপট কালী মন্দির কমিটির সম্পাদক দেবদুলাল মণ্ডল বলেন, খালেক দর্জি নিষ্ঠার সঙ্গে ঠাকুরানির পোশাক তৈরি করেন। যা সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। তাঁর পূর্বপুরুষরা এই কাজ কয়েক যুগ ধরে করে এসেছেন।খালেকুল দেওয়ান বলেন, পুজো কমিটিই আমাকে এই দায়িত্ব দেয়। পাশাপাশি ভক্তদের কয়েকশো পোশাক আমি তৈরি করি। প্রতিবছর রোজা যেমন পালন করি তেমনি নিষ্ঠার সঙ্গে কালী প্রতিমার পোশাক তৈরি করি। নিজস্ব চিত্র