Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সালারে গৃহশিক্ষক ছাড়াই সম্ভাব্য মহকুমা সেরা সুন্দরগোপাল

কোনও প্রাইভেট টিউশনি ছিল না। প্রতিদিন সাইকেলে দেড় কিমি দূরে মামার কাছে গাইডেন্স নিতে যেতে হতো।

সালারে গৃহশিক্ষক ছাড়াই সম্ভাব্য মহকুমা সেরা সুন্দরগোপাল
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: কোনও প্রাইভেট টিউশনি ছিল না। প্রতিদিন সাইকেলে দেড় কিমি দূরে মামার কাছে গাইডেন্স নিতে যেতে হতো। কঠোর সংগ্রাম করে মাধ্যমিকে ৬৬২ নম্বর পেয়ে কান্দি মহকুমায় সম্ভাব্য সেরা চাষি পরিবারের ছেলে সুন্দরগোপাল পাল। সালার থানার প্রত্যন্ত নবগ্রামের এই কৃতী আগামী দিনে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। আর ছেলের এই স্বপ্নপূরণে পরিবারের শেষ সম্বল দু’বিঘা জমিও বিক্রি করতে রাজি তার পরিবার।

Advertisement

সুন্দরগোপাল স্থানীয় মসড্ডা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। পঞ্চম শ্রেণি থেকেই তার কোনও গৃহশিক্ষক ছিল না। তা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের প্রতি ক্লাসে সে প্রথম হয়ে এসেছে। তাকে পড়াশোনায় গাইড করতেন মামা সনৎকুমার ঘোষ। সনৎবাবুর বাড়ি নবগ্রাম থেকে প্রায় দেড় কিমি দূরে স্বর্ণহাটি গ্রামে। প্রতিদিন সাইকেলে সেখানে গিয়ে সুন্দর পড়াশোনা করত।সুন্দর বলে, মামার কাছে যেভাবে গাইড পেয়েছি, তাতে প্রাইভেট টিউটরের দরকার পড়ত না। তবে পরীক্ষায় আরও বেশি নম্বর পাব ভেবেছিলাম। ইংরেজিতে নম্বর কম হয়ে গেল। আগামী দিনে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। তবে আর্থিক সমস্যায় কীভাবে তা সম্ভব হবে-বুঝতে পারছি না।সুন্দরগোপাল গণিত, ভৌতবিজ্ঞান ও জীবনবিজ্ঞানে ৯৯ করে পেয়েছে। ইংরেজিতে ৮৬ নম্বর পেয়েছে। বাকি বিষয়েও ৯০-এর উপর নম্বর পেয়েছে। সে পরিবারের একমাত্র ছেলে। তার বাবা রবীন্দ্রনাথ পাল পেশায় চাষি। মা স্বর্ণময়ী পাল গৃহবধূ। একতলার পাকা বাড়ির দু’টি ঘরে তাঁদের বসবাস। স্বর্ণময়ীদেবী বলেন, স্বামী চাষ করে যা রোজগার করে তা দিয়ে সংসার চলে। প্রথম থেকেই ছেলেকে প্রাইভেট টিউশনি দিতে পারিনি। রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, আমাদের সম্বল বলতে দু’বিঘা জমি। ছেলের স্বপ্নপূরণে যদি শেষ সম্বল জমিটাও চলে যায়, দুঃখ নাই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ