Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিঁদুর-বেনারসি পরিয়ে হবু স্ত্রীকে শেষ বিদায় সাগরের

বিয়েতে সবাই আনন্দ করে। তবে সাগর-মৌলির বিয়েতে কাঁদতে হল সবাইকে। ক্যান্সারের সঙ্গে টানা দু’বছর লড়াই চালিয়েছিলেন।

সিঁদুর-বেনারসি পরিয়ে হবু স্ত্রীকে শেষ বিদায় সাগরের
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিয়েতে সবাই আনন্দ করে। তবে সাগর-মৌলির বিয়েতে কাঁদতে হল সবাইকে। ক্যান্সারের সঙ্গে টানা দু’বছর লড়াই চালিয়েছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত হারতেই হল। শুক্রবার ভোররাতে মৃত্যু হয় মৌলি মণ্ডলের। সামনের অগ্রহায়ণে সাগর বারিকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। প্রেমিকার মৃত্যুর পর তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে নববধূর সাজ পরালেন প্রেমিক। রীতি অনুযায়ী হল বিবাহ অনুষ্ঠান। রজনীগন্ধা নয়, মৌলির পছন্দের ফুল ছিল গোলাপ। তাই দিয়ে সাজানো হয়েছিল তাঁকে। গা ভর্তি গোলাপের সাজ পরে চিতায় উঠলেন নববধূ মৌলি। ঘটনাটি হাওড়ার সাঁকরাইলের মানিকপুর গ্রামের। তবে চোখে জল আনা এ বিবাহের ঘটনার কথা ছড়িয়েছে রাজ্যের সর্বত্র। আর সব জায়গাতেই মন ভার মানুষের।

Advertisement

শুক্রবার প্রেমিকার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর বাড়ি ছুটে গিয়েছিলেন সাগর। ‘ভালবেসে মিটল না স্বাদ... হায়! জীবন এত ছোট ক্যানে, এ ভুবনে?’ তারাশঙ্করের লেখা খুব প্রিয় ছিল দু’জনের। মৌলির মরদেহ নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন সাগর। বেনারসি কেনা ছিল। তা পরিয়ে দেন। কাঁপা হাতে নিপুণভাবে প্রেমিকার কপালে এঁকে দেন কল্কা। সোনা-রুপো ধোয়া জল দু’গালে ছুঁইয়ে কনকাঞ্জলির তিন মুঠো চাল পাশে রাখার নিয়ম। দুই পা আলতায় রাঙানোর নিয়ম। বিবাহের সেই রীতি পালন করেন। সবুজ বেনারসিতে ফুটফুটে কনে বউয়ের মতো লাগছিল মৌলিকে। আট বছরের প্রেমিকার শুয়ে থাকা নিথর দেহ কোলে তুলে এরপর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন সাগর। এ সময় উলুধ্বনি দেওয়ার নিয়ম। তবে ব্যতিক্রম ঘটল। কেঁদে উঠলেন আত্মীয়স্বজনরা। এক আকাশ ভালোবাসা বুকে চেপে বিমূঢ় হয়ে বসে রইলেন সাগর। নববধূর সাজে বিদায় নিলেন মৌলি। ‘যেতে নাহি দিব... হায় তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়...।’ রবীন্দ্রনাথও খুব প্রিয় ছিল দু’জনের। সাগরের মা চাঁপাদেবী বলেন, ‘জানি না ছেলেটা কিভাবে থাকবে।’ সাগর বলেন, ‘চেয়েছিল গোলাপের মালা পড়ে বিয়ে করবে। তাই তো করলাম। তবুও একবারও চোখ খুলে দেখল না।’
দুই পরিবারের উপর প্রথম ঝড়টি আছড়ে পড়েছিল ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে। স্তনে ক্যান্সার ধরা পড়ে মৌলির। কলকাতার পিজি হাসপাতালে টানা এক বছর চিকিৎসা। লাগাতার কেমোথেরাপি। গত বছরের আগস্টে অস্ত্রোপচার। তা সফল হয়। অনেকটাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন মৌলি। তখন প্রতি মুহূর্তে সাহস জুগিয়ে গিয়েছিলেন সাগর। তাঁর দায়িত্ববোধ মুগ্ধ করেছিল দুই পরিবারকে। এরপর অগ্রহায়ণে বিয়ে ঠিক হয়। মার্চে হঠাৎ পক্সে আক্রান্ত মৌলি। দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি। শ্বাসকষ্ট, শরীরে যন্ত্রণা। মাঝেমধ্যেই পিজিতে নিয়ে যেতে হতো। মৌলির ভাই বলেন, ‘শুক্রবার রাতে খুব কষ্ট হচ্ছিল বোনের। মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য ঘুমোয়। তখনই আমাদের ফাঁকি দিয়ে হারিয়ে গেল বোন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ