Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

রাশিয়াই বন্ধু, ভারতের কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক, আসছে অত্যাধুনিক মিগ-২৯, আরও এস-৪০০

একে বলা যেতে পারে ‘পেইড ব্যাক বাই ওন কয়েন’। গত কয়েকদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারংবার আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, বাণিজ্যকে সামনে রেখে তিনিই ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ থামিয়েছেন।

রাশিয়াই বন্ধু, ভারতের কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক, আসছে অত্যাধুনিক মিগ-২৯, আরও এস-৪০০
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একে বলা যেতে পারে ‘পেইড ব্যাক বাই ওন কয়েন’। গত কয়েকদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারংবার আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, বাণিজ্যকে সামনে রেখে তিনিই ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ থামিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, যুদ্ধের থেকে বাণিজ্য ভালো। আর এবার সেই বাণিজ্য-অস্ত্রেই আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিচ্ছে ভারত। রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কেউ করুক, এটা আমেরিকার পছন্দ নয়। বাইডেনের আমলেও কিন্তু ভারত সেই ফতোয়া মানেনি। এবার ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান-কাশ্মীর নিয়ে নিত্যদিনের অতিশয়োক্তির জবাবে আরও বেশি করে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াচ্ছে ভারত। এবং যে দু’টি ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে বেশি গাত্রোদাহ, সেই অস্ত্র এবং অশোধিত তেলেই। এটা নিঃসন্দেহে কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক। ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধের সময় নায়কের ভূমিকা পালন করেছে রাশিয়া থেকে আনা এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। মোট পাঁচটি এস-৪০০ পুতিনের দেশের থেকে কিনেছে ভারত। এখনও পর্যন্ত তিনটি ডেলিভারি হয়েছে। বাকি আরও দু’টি। কিন্তু ভারত এই সংখ্যা আরও বাড়াতে চায়। অর্থাৎ এই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের নতুন চুক্তি হবে। তারই পাশাপাশি অত্যাধুনিক মিগ-২৯ ফাইটার জেট। আগামী সপ্তাহেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল মস্কো যাচ্ছেন। তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রয়োদশ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়া। কিন্তু সরকারি সূত্রের খবর, এই সম্মেলনের ফাঁকেই দোভাল আরও বেশি সংখ্যক এস-৪০০ এডিএস কেনার বিষয়ে কথা বলবেন। ‘মিগ-২৯ কে’ ফাইটার জেটের ডিল তো আগেই হয়ে রয়েছে। তার মধ্যে থাকবে টেকনোলজি ট্র্যান্সফার ক্লজও। সেই সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এবং বুঝিয়ে দেওয়া হবে, বন্ধু আর ‘প্রকৃত বন্ধু’র ফারাকটা কী। 

Advertisement

সবেমাত্র ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছেন, অন্য কোনও দেশ নয়, ভারত নিজের শর্তেই যুদ্ধবিরতি করেছে। ট্রাম্প কিন্তু থামছেন না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার তিনি যুদ্ধ থামাতে নিজের কৃতিত্বই দাবি করেছেন। লাগাতার অষ্টমবার। সঙ্গে সেই বাণিজ্য-যুক্তি। উপরন্তু এদিন ট্রাম্প পাকিস্তানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলেন, ‘পাকিস্তানের নেতৃত্ব অসাধারণ। ভারতও আমার খুব বন্ধু। তাদের মধ্যে সন্ধিপ্রস্তাবে আমার বাণি঩জ্য অফার হয়েছে অনুঘটক।’ ট্রাম্পের এই উক্তিতে প্রত্যাশিতভাবে ভারত বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। কিন্তু এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনে চলছে ভারত ও মার্কিন শিল্প-বাণিজ্য বিভাগের চুক্তি-আলোচনা। ৮ জুলাইয়ের মধ্যে এই ট্রেড ডিল করে ফেলতে চায় ভারত। নয়াদিল্লির আশা, এই চুক্তি হয়ে গেলে আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্ক এড়ানো যাবে। তাই প্রত্যক্ষভাবে আমেরিকাকে কঠোর জবাব এখনই দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু উত্তর দেবে ভারত—বাণিজ্যেই। 
রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ অশোধিত তেল আমদানি হবে চলতি মাসে। দিনপ্রতি ২০ লক্ষ ব্যারেল। শুধু ভারতের সরকারি তেল সংস্থাগুলি নয়, বেসরকারি তেল উৎপাদন সংস্থাও মূলত রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানি করছে। ঠিক একইভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বল্পকালীন যুদ্ধ এবং যুদ্ধবিরতির পর রাশিয়া থেকে নতুন করে সামরিক সরঞ্জামের ডিল। এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ যে পাকিস্তানের যাবতীয় হামলা প্রতিহত করেছে সেটাই নয়, রীতিমতো কাঁপুনিও ধরিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদের বুকে। কারণ বহু চেষ্টা সত্ত্বেও এই আবরণ ভাঙতে পারেনি পাক ড্রোন বা মিসাইল। নতুন অস্ত্র চুক্তির অর্থ তাই স্পষ্ট। পাকিস্তান হোক বা আমেরিকা, ভারত একটিই বার্তা পৌঁছে দিতে চায়—প্রয়োজনের সময় যে পাশে থাকে, সেই বন্ধু। ১৯৭১ হোক কিংবা ২০২৫, ভারতবন্ধু চিরকালই রাশিয়া! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ