ওয়াশিংটন: বুধবার রাতে নয়া শুল্ক নীতি তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার আগে একটি সভায় শুল্কের নিশানায় থাকা দেশগুলিকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। ব্যবহার করেছেন ‘অশালীন’ ভাষাও। মার্কিন শুল্কের নিশানায় থাকা দেশগুলিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ওরা এখন সমঝোতা করতে চাইছে। আর সেজন্য সব কিছুই করতে প্রস্তুত। ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটিতে বক্তব্য রাখার সময় একথা বলেন তিনি। কর ইস্যুতে ট্রাম্পের তীর্যক মন্তব্য, ‘আমি আপনাদের বলছি— ওই দেশগুলি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমার পদলেহন করতে শুরু করেছে। চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। ওরা এখন বলছে, দয়া করে একটা চুক্তি করে নিন, সব কিছু করতে রাজি। দয়া করে সমঝোতায় আসুন স্যার।’ ‘আত্মবিশ্বাসী’ ট্রাম্পের দাবি, দর কষাকষিতে তিনি মার্কিন কংগ্রেসের থেকেও দক্ষ। এদিকে, মঙ্গলবার ট্রাম্প ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের উপরও শীঘ্রই বড় ধরনের কর চাপানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর জেরে ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ওষুধ আমদানিতে চড়া শুল্ক বসানো নিয়ে ট্রাম্পের সওয়াল, এরফলে বিদেশি সংস্থাগুলিকে তাদের কাজকর্ম আমেরিকার মাটিতে সরিয়ে আনতে হবে। ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার হল আমেরিকা। ২০২৪ সালে ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলির মোট রপ্তানির ৩১ শতাংশের (৮৭০ কোটি ডলার) গন্তব্য ছিল আমেরিকা। একাধিক নামজাদা ভারতীয় ওষুধ সংস্থার মোট আয়ের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ আসে আমেরিকার বাজার থেকে। স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের নয়া বার্তায় ভারতের ওষুধ উৎপাদন শিল্পের উদ্বেগ বেড়েছে। গত ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক সংক্রান্ত ওই ঘোষণায় সেমিকন্ডাক্টর, তামা ও ওষুধকে করের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছিল। বুধবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, আমেরিকার চাপানো করের প্রভাব ভারতের উপর কতটা পড়তে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা জোরকদমে চলছে। চলতি বছরের শেষের দিকেই সেই চুক্তি দিনের আলো দেখতে পারে বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।



