Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

রাজভবনে আরএসএসের ‘পতাকা’, কেরলে রাজ্যপাল-সরকার সংঘাত

রাজভবনে আরএসএসের ‘পতাকা’। এই অভিযোগ ঘিরে সরগরম কেরলের রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরের কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও।

রাজভবনে আরএসএসের ‘পতাকা’, কেরলে রাজ্যপাল-সরকার সংঘাত
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তিরুবনন্তপুরম: রাজভবনে আরএসএসের ‘পতাকা’। এই অভিযোগ ঘিরে সরগরম কেরলের রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরের কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও। রাজ্যপালকে চিঠি লিখে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, এভাবে বিশেষ একটি ভাবধারার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পতাকা উড়িয়ে রাজ্যপাল সংবিধান ভাঙছেন। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হয়েছে রাজভবনও। বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, কেরল সরকারের মন্ত্রীরা ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যপালকে অপমান করছে অভিযোগ করেছে।

Advertisement

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যপালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে  ‘ভারতমাতা’র ছবি সম্বলিত গেরুয়া পতাকা উড়তে দেখা যায়। সাধারণত, এরকম পতাকা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস ব্যবহার করে থাকে। গত ১৯ জুন রাজভবনে পড়ুয়াদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবানকুট্টিও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে ওই পতাকা ব্যবহার হতে দেখেই তিনি অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যান। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারি অনুষ্ঠানে এমন প্রতীক ব্যবহার বাঞ্ছনীয় নয়। যদিও মন্ত্রীর পাল্টা সমালোচনা করে বিবৃতি দেয় রাজভবনও। এভাবে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গিয়ে শিবানকুট্টি প্রোটোকল ভাঙার পাশাপাশি রাজ্যপাল ও পড়ুয়াদের অপমান করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। এরপরই আসরে নামেন স্বয়ং বিজয়ন। তিনি জানান,  সরকারি অনুষ্ঠান ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া উচিত। বিজয়নের বক্তব্য, ‘কয়েকজন প্রশ্ন তুলেছে, ভারতমাতাকে সম্মান জানানোয় কী সমস্যা আছে? কিন্তু তাদের বোঝা উচিত, আমাদের সংবিধানে ভারতমাতার কোনও উল্লেখ নেই। ভারতমাতা ছবিসহ পতাকা আরএসএস ব্যবহার করা উচিত। তারা সম্মান জানাক। কিন্তু সকলে এক পথে চলবে, এটা ভাবা ঠিক নয়।’ রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘কেউ কোনও মতবাদে বিশ্বাসী হতেই পারেন, কিন্তু সরকারি জায়গার কখনও রাজনৈতিক বা বিশেষ মতবাদ প্রচারের জায়গা হতে পারে না। এমন কাজ সংবিধানকেই চ্যালেঞ্জ করে।
এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে কেরলের স্কুলে রাজ্যপালদের ক্ষমতা ও কর্তব্যের বিষয়ে পড়ানো হবে। এর জন্য সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে বদল নিয়ে আসা হচ্ছে। সিলেবাসেও প্রয়োজনীয় রদবদল করা হচ্ছে। শিবানকুট্টি বলেন, ‘গণতন্ত্রের গুরত্ব বোঝার জন্য স্কুলই আদর্শ জায়গা। নতুন উদ্যোগের ফলে পড়ুয়ারা সংবিধানের আদর্শ বুঝতে পারবে। আপাতত নিচু ক্লাসে রাজ্যপাল সংক্রান্ত অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও এই বিষয়ে পড়ানো হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ