নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিঁথিতে সোনার দোকানে ডাকাতির পর লুটের সোনার ভাগ পেয়েছিল অভিযুক্ত ইসরাইল। আর সেই সোনা লুকিয়ে রাখার জন্য সে নিয়েছিল অভিনব পন্থা। পুলিশ যে তার বাড়িতে তল্লাশিতে আসতে পারে, তা আগে থেকেই আন্দাজ করেছিল অভিযুক্ত। সেই কথা মাথায় রেখেই সে এমন এক জায়গায় সোনা লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে, যাতে পুলিশ তল্লাশি চালালেও খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। ‘সফল’ ডাকাতির পর বাড়ি ফেরার পথে সে কিনেছিল প্রচুর পালং শাক। সেই শাকের মধ্যে ডাকাতির সোনা মুড়িয়ে ফ্রিজে রেখে দেয় সে। তবে এতসবের পরও শেষ রক্ষা হয়নি! বৃহস্পতিবার খানাকুলে ইসরাইলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। ফ্রিজে তল্লাশি চালাতেই মেলে লুট করে আনা ১ কেজি ২০০ গ্রাম সোনা। বাকি সোনা ভাড়াটে দুষ্কৃতী আব্বাস নিয়ে পালিয়েছে বলে দাবি ধৃত ইসরাইলের।
গত ২৯ অক্টোবর সিঁথি এলাকার একটি সোনার গয়না তৈরির কারখানা থেকে মোট ২ কেজি ৩৮০ গ্রাম সোনা লুট করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই কারখানার দুই প্রাক্তন কর্মী ইসরাইল এবং সইদুল সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তরা ধরা পড়ার পর লুটের সোনা উদ্ধার করা ছিল তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য। কারণ, সোনা উদ্ধার হলে আদালতে সহজে প্রমাণ করা যায় যে এই অভিযুক্তরাই ঘটনা ঘটিয়েছে। ইসরাইল জেরায় পুলিশকে জানায়, সে ও তার ভগ্নীপতি মিলে ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। সোনা কোথায় রাখা আছে, এই প্রশ্নে তদন্তকারীদের বারবার বিভ্রান্ত করছিল সে। প্রথমে সে দাবি করে, সব সোনা নিয়ে পালিয়েছে আব্বাস। তারা কিছুই ভাগ পায়নি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়ে ইসরাইল শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে, সোনার বাট লুটের পর তারা সবাই খানাকুলে আসে। সবারই বাড়ি ওই এলাকায়। সেখানে একটি গোপন ডেরায় বসে লুটের সোনা ভাগবাটোয়ারা করে তারা। অভিযুক্ত দাবি করে, অন্যরা কোথায় সোনা রেখেছে, তা তার জানা নেই। কিন্তু সে সোনা নিয়ে ভিন রাজ্যে যায়নি। কারণ, ওই সোনা নিয়ে যাতায়াতে বিপদ ছিল বলে মনে করেছিল সে। ভাগের ১২০০ গ্রাম সোনা সঙ্গে নিয়েই সে একটি বাজারে যায়। বাজার থেকে কিনে আনে পালং শাক ও বিভিন্ন ধরনের সবজি। বাড়িতে এসে পালং শাকের মধ্যে সোনা মুড়িয়ে তার উপর অনেকটা সবজি রেখে বাস্কেটে ভরে রেখে দেয় ফ্রিজে। ধৃতের কাছ থেকে এই কথা জানার পরই গোয়েন্দারা বৃহস্পতিবার খানাকুলে ইসরাইলের বাড়িতে হানা দিয়ে ফ্রিজ থেকে সেই সোনা উদ্ধার করে।