নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: লালগড় সারদামণি বালিকা বিদ্যালয়ে মাঝরাতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় শোরগোল পড়েছে। শুক্রবার রাতে চার পাঁচ জনের দুষ্কৃতী দল পাঁচিল টপকে স্কুলে ঢোকে। নিরাপত্তা রক্ষীকে ছুরি দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়। স্কুলের অফিস, স্টাফরুম, কম্পিউটার রুম ও প্রধান শিক্ষিকার অফিসের তালা ভেঙে আলমারির লকার থেকে ১২ হাজার ৬৫৮ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
জনবহুল লালগড় এসআই চক এলাকায় স্কুলটি রয়েছে। ঢিলছোড়া দূরত্বে লালগড় থানা। মুখ ঢাকা অবস্থায় দুষ্কৃতী দলটি প্রথমে বাউন্ডারির দেওয়াল টপকে স্কুলে ঢোকে। নিরাপত্তা রক্ষী সুনীল দাসকে ছুরি দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়। এরপর স্কুলের পশ্চিম অংশের গ্ৰিলের তালা ভেঙে স্কুলভবনের ভিতরে দুষ্কৃতীরা ঢোকে। প্রথমেই সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেওয়া হয়। এদিন স্কুলে দেখা যায় প্রধান শিক্ষিকার ঘর, অফিস, স্টাফরুম ও দোতলার কম্পিউটার রুমের আলমারি হাট করে খোলা। ভাঙা লকার থেকে তালা ঝুলছে। একাধিক আলমারির লকার ভাঙা হয়েছে। অফিস রুমের একটি আলমারির লকারে ১২ হাজার ৬৫৮ টাকা ছিল। সেই টাকা চুরি করা হয়। যাওয়ার সময় সিসিটিভির হার্ডডিস্কও খুলে নেয় দুষ্কৃতীরা।
নিরাপত্তা রক্ষীর দাবি, দুষ্কৃতী দলের হাতে ছুরি ও বড় লাঠি ছিল। ভোরে তিনি স্কুলের এক কর্মীকে চুরি যাওয়ার ঘটনার কথা জানান। চুরির কথা জেনে প্রথমে এক শিক্ষিকা স্কুলে আসেন। খবর পেয়ে লালগড় থানার পুলিসও স্কুলে আসে। চুরির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানতে নিরাপত্তা রক্ষীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
শুক্রবার স্কুলের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া চলছিল। জমা পড়া ৬৭ হাজার ৭৫০ টাকা বিকেলে ব্যাঙ্কে জমা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এই টাকা চুরি করতেই দুষ্কৃতীরা স্কুলে ঢুকেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সমাপ্তি বিশুই বলেন, চুরির ঘটনার খবর পেয়েই সাত সকালে স্কুলে চলে আসি। দরজার হ্যাজবোল্ট মসৃণভাবে কাটা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র থাকা আলমারিগুলো লক করা ছিল। একাধিক আলমারির লকার ভাঙা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে হার্ড ডিস্ক নিয়ে পলিয়ে গিয়েছে। স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। জেলার শিক্ষা দপ্তরকেও বিষয়টি জানিয়েছি।
স্কুলের অশিক্ষক কর্মী সৌমেন রায় বলেন, রাতে স্কুলে নিরাপত্তা রক্ষী পাহারা দেন। আগে স্কুলের সামনে সিভিক ভলান্টিয়াররা পাহারা দিত। গত ছ’মাস ধরে তাঁদের আর দেখা যায় না। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ভর্তি ফি বাবদ জমা টাকা বিকেলেই ব্যাঙ্কে জমা করা হয়। সেই টাকা চুরির উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীরা ঢুকেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। লালগড় থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে। পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।