সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: জবরদখলে রাস্তা ক্রমশ শুরু হয়ে গিয়েছে। শিলিগুড়ি জংশনে ঢোকার মুখে হিলকার্ট রোড দখল করে একের পর এক খাবারের দোকান গজিয়ে উঠেছে। তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস ও শিলিগুড়ি জংশন রেল স্টেশনে ঢুকতে এবং বের হতে যাত্রীরা নাজেহাল হচ্ছেন। বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। জংশনে রাস্তার উপর দোকান চলে আসায় এবার শিলিগুড়ি পুরসভা কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে। শনিবার মেয়র গৌতম দেব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জংশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সহ শহরের প্রতিটি রাস্তার ফুটপাতে মানুষ হাঁটার অধিকার ফিরে পাবেন। এ ধরনের জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না।
এদিন শিলিগুড়ি পুরসভার টক টু মেয়র ফোন-ইন লাইভ অনুষ্ঠানে এক নাগরিক মেয়রকে জংশনের এই সমস্যার কথা জানান। অনুপ ঘোষ নামে ওই নাগরিক মেয়রকে আর্জি জানান, যেভাবে সব দোকান রাস্তার উপর চলে এসেছে, তাতে প্রতি মুহূর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। যাত্রীরা হয়রান হচ্ছেন। আপনি ব্যবস্থা নিন। মেয়র তাঁকে আশ্বস্ত করেন, নিজে গিয়ে গোটা পরিস্থিতি দেখবেন বলে।
অনুষ্ঠান শেষে মেয়র বলেন, এর আগেও ওই রাস্তার জবরদখল সরানোর জন্য আমরা অভিযানে নেমেছিলাম। বিরোধীদের থেকে বাধা এসেছিল। এবার কোনও বাধাই মানা হবে না। এই রাস্তা সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব রাস্তায় জবরদখল সরিয়ে ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।
এদিকে অমৃতভারত প্রকল্পের শিলিগুড়ি জংশনকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। এখান থেকে দূরপাল্লার ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে। যাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু, জংশন স্টেশনে ঢোকার রাস্তার মুখ জবরদখলে অপরিসর হওয়ায় এই স্টেশনে পরিষেবা প্রসারিত করতে রেলকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
রেল বারবার জানিয়েছে, এই রাস্তা অপরিসর হওয়ায় দূরপাল্লার ট্রেন এই স্টেশনে বাড়ানো যাচ্ছে না। এব্যাপারে রেল স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা আহ্বান করেছে। এদিন মেয়র শিলিগুড়ি জংশনের এই রাস্তার জবরদখল সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করায় রেল আশাবাদী।
মেয়র বলেন, মহাবীরস্থানেও রাস্তার উপর লাইন দিয়ে দোকান বসেছে। শহরকে গতিময় করতে রাস্তা জবরদখলের এই প্রবণতা বন্ধ করা হবে। শহরের কোনও রাস্তায় এভাবে দোকান বাজার করতে দেওয়া চলবে না। নিজস্ব চিত্র।