নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় এসআইআর শুরুর আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫৭ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৫ জন। এসআইআর শুরুর পর প্রাথমিক ভেরিফিকেশন করার পর ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৮৩৭ জনের নাম বাদ যায়। তাদের মধ্যে রয়েছে মৃত, নিরুদ্দেশ এবং স্থানান্তরিত হওয়া ভোটার। ফলে জেলার ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৪৮। এরপরও এসআইআর পর্বে দফায় দফায় হাজিরা দিতে হয়েছে ভোটারদের। সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নথিতে অসঙ্গতি থাকা ভোটাররা। পরবর্তীতে আবার লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কারণ দেখিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়। তবে এখানেই শেষ নয়, এসআইআরের শেষ পর্বে যখন পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে তার ঠিক আগেই মুর্শিদাবাদ জেলার আরও সাড়ে চার লক্ষ ভোটারের নথিতে সন্দেহ প্রকাশ করেছে কমিশন। শুধু সন্দেহ প্রকাশ নয়, কাজে গাফিলতির অভিযোগ তুলে মুর্শিদাবাদ জেলার তিন এইআরওকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার নতুন করে সাড়ে চার লক্ষ ভোটারের নথি রিভিউয়ের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে নামানো হয়েছে। ফলে এই সাড়ে চার লক্ষ ভোটারের মধ্যে কত মানুষের নাম বাদ যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গোটা ঘটনায় কমিশনের উপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে সামান্য ত্রুটির জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়ে কমিশনের আধিকারিকদের কাছে নথিপত্র দেখাতে হয় ভোটারদের। এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই মানুষের পাশে আছে রাজ্যের শাসক দল। কেন্দ্রের নির্দেশে কমিশনের এই এসআইআরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা। তারপরেও কমিশন জোর জবরদস্তি যখন সাধারণ মানুষের উপর এটা চাপিয়ে দেয়, তখন মানুষের হয়রানি বাড়ে। ভোটারদের বিভিন্ন নথি এবং তথ্য জোগাড় করতে সাহায্য করেছে শাসকদল। এমনকি, শুনানি কেন্দ্রের বাইরে শাসক দলের তরফে শিবির করে সাধারণ ভোটারের নথিপত্র যাচাইয়ের সাহায্য করে তারা। এই ময়দানে সেভাবে দেখা যায়নি অন্য রাজনৈতিক দলকে। এটাই আগামী নির্বাচনে মানুষের পাশে থাকার জন্য শাসক দলের বাড়তি ডিভিডেন্ট দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, এই জেলার সাড়ে আঠারো লক্ষের বেশি ভোটারকে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কাগজ নিয়ে শুনানিতে হাজির হতে হয়। এরপরও হয়রানির শিকার হচ্ছে। আবারও মুর্শিদাবাদ জেলার সাড়ে চার লক্ষ ভোটারের নথি পুনরায় যাচাই করতে বলা হয়েছে। এটা খুবই অমানবিক। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন যেভাবে মানুষকে হয়রান করছে, তার জবাব মানুষ আগামীতে নিশ্চয়ই দেবে।
বহরমপুর বিজেপি নেতা লাল্টু দাস বলেন, তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। অনুপ্রবেশকারী এপারে এসে তৃণমূল নেতাদের মদতে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। তারাই তৃণমূলের ভোটব্যাংক। এখন কমিশন এই সমস্ত অবৈধ ভোটারদের বাদ দিতে চাইছে, তাতেই তৃণমূলের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত ভোটাররাই আগামী নির্বাচনে ভোট দেবে। ফলে তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে যে মাটি সরে যাবে, সেটা তারা বুঝতে পেরেছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি মাহফুজ আলম ডালিম বলেন, নির্বাচন কমিশন একের পর এক নির্দেশ জারি করছে। স্বাভাবিকভাবেই এই এসআইআর প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচন কবে হবে সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। আমরা সব সময় চাইছি প্রকৃত ভোটাররাই যেন ভোট দেয় এবং ভোট প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়। জেলার একজনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায়। প্রতীকী চিত্র