Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ি, আবাসনে রেস্তরাঁ? যৌথ অভিযানে পুরসভা

সিটিসেন্টার হোক কিংবা বেনাচিতি বা বিধাননগর। বসবাসের জন্য নেওয়া বাড়ি ও আবাসনেই গজিয়ে উঠছে রেস্তরাঁ, ফুড কোর্ট।

বাড়ি, আবাসনে রেস্তরাঁ? যৌথ অভিযানে পুরসভা
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সিটিসেন্টার হোক কিংবা বেনাচিতি বা বিধাননগর। বসবাসের জন্য নেওয়া বাড়ি ও আবাসনেই গজিয়ে উঠছে রেস্তরাঁ, ফুড কোর্ট। এমনকী, অনেকে করছেন জিম ও বিউটি পার্লার। মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য এটি কি আদৌ উপযুক্ত জায়গা? জবাব নেই কারও কাছে। প্রবেশ ও প্রস্থানের সঙ্কীর্ণ দরজা। যেকোনও সময়ে কলকাতার মতো ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের ঘটতে পারে দুর্গাপুরেও। কলকাতার অঘটন স্টিলসিটিতে এড়াতে কোমর বেঁধে নামছে দুর্গাপুর পুরসভা ও এডিডিএ। তারা যৌথভাবে সার্ভের কাজ শুরু করতে চলেছে। নিয়ম ভেঙে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Advertisement

দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, আপনি আচরি ধর্ম, অপরে শেখাও। প্রথমে পুরসভার অধীনে থাকা মার্কেট কমপ্লেক্স, অনুষ্ঠান ভবনগুলির প্রবেশ ও প্রস্থান থেকে ফায়ার সেফটির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা দেখার কাজ শুরু করেছি। আমাদের নিজস্ব ভবনের সার্ভের কাজ শেষ হওয়ার পর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির সার্ভের কাজ শুরু হবে। এক্ষেত্রে এডিডিএকে নিয়েই অভিযান চালানো হবে। এখন অনলাইনের মাধ্যমেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়। তাই নিয়ম ভেঙে জনবহুল বসতি এলাকার মধ্যেই রেস্তরাঁ, ফুড কোর্ট গড়ে উঠছে। সেটা নিরাপত্তার জন্য যেমন উদ্বেগের, তেমনি সরকারের রাজস্ব নষ্ট হচ্ছে। তাদের কমার্শিয়াল ট্যাক্স দিতে হবে।
সদ্য কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হোটেলের ঘরে আবদ্ধ হয়ে ১৬জনের মৃত্যু হয়। তারপরই কলকাতা পুরসভা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আবাসনের ছাদ দখল করে বাণিজ্য করা যাবে না। রুফটপ রেস্তরাঁ তো কোনওমতেই চলতে দেওয়া যাবে না। কলকাতার ঘটনায় আতঙ্কিত দক্ষিণবঙ্গের দুই মেগা সিটি দুর্গাপুর ও আসানসোল। দুর্গাপুরের লোকালয়ে ব্যবসা চালাতে গিয়ে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অনেকে বাড়ি ভিতরেই ক্যাটারিংয়ের রন্ধনশালা গড়ে তুলেছেন। সেখানে লাইন দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে রান্না করা হচ্ছে। কোথাও আবার সম্পূর্ণ নিয়ম ভেঙে চলছে গ্যাস রিফিলিংয়ের কাজ। যেকোনও সময়ে তা থেকে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। শহরে আগে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এবার পুরো বিষয়টি নিয়েই সার্ভে করে পদক্ষেপ নিতে চলেছে দুর্গাপুর পুরসভা। সেক্ষেত্রে তাঁরা এডিডিএর সঙ্গে যৌথভাবে এই কাজ করবে। 
পুরসভার নিজস্ব মার্কেটগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে পুরকর্তৃপক্ষ। তাই মাঙ্গলিক থেকে আনন্দধারা, বিজয়কুঠির সব জায়গায় সার্ভে করার নির্দেশ দিয়েছেন পুরসভার কর্তারা। তারপরে হবে বেসরকারি জায়গাগুলিতে অভিযান। বাড়ির মধ্যে যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তার বৈধ অনুমতি দেখতে চাওয়া হবে। তারপরই দেখা হবে সেখানে আগুন লাগার কোনও আশঙ্কা রয়েছে কি না! আগুন লাগলে বেরিয়ে যাওয়ার বিকল্প রাস্তা ও দমকলের গাড়ি আসার পর্যাপ্ত জায়গা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে।  প্রতীকী ছবি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ