নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শহরে বাড়িভাড়া বেশি। শহরে অনেক বেশি ভাড়াটে। বাড়ির মালিক কম। গ্রামে নিজের বাড়ি বেশি। ভাড়ার প্রবণতা কম। তাই ভাড়াও কম। আবহমানের এই প্রবণতা, ধারণা অথবা আর্থ সামাজিক চিত্র দ্রুত বদলে গিয়েছে। হাউসহোল্ড কনজাম্পশন সার্ভে রিপোর্টে এই গতিপ্রকৃতি দেখে এবার সরকার নড়েচড়ে বসেছে। ভারতের গ্রামীণ এলাকায় দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ভাড়া বাবদও মাসে ব্যয় বেড়ে চলেছে। সামগ্রিক সংসার খরচের মধ্যে বাড়িভাড়াও একটি বড়সড় স্থান নিয়েছে। এই প্রবণতা এতকাল ছিল শহরে। এবার দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ ভারতের মানুষের মাসিক সাংসারিক ব্যয়ের মধ্যে ক্রমেই স্থান করে নিয়েছে বাড়ি ভাড়া।
‘আবাসন’ খাতে মাসিক সাংসারিক ব্যয় ২০১১ সালে যা ছিল, সেটা দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। ছিল ৩ শতাংশ। হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। শহরের সমান হয়ে যাচ্ছে বৃদ্ধিহার। রিপোর্ট পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক স্থির করেছে, আগামী আর্থিক বছর থেকে গ্রামীণ আবাসন বাবদ ব্যয়কেও মূল্যবৃদ্ধির সূচক নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মাসে একটি পরিবারের কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়, তার যে তালিকা ধরে এখন মূল্যবৃদ্ধির সূচক নির্ধারণ করা হয়, সেখানে শহুরে আবাসনের ব্যয় ধরা থাকলেও গ্রামীণ আবাসন ব্যয় থাকে না। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গ্রামীণ এলাকায় ভাড়াকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে খুচরো মূল্যৃদ্ধির হারের মানদণ্ড নির্ধারণে। এই প্রবণতা উদ্বেগজনক। কারণ, এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে সস্তায় জমি কিনে নিজের বাড়ি নির্মাণের প্রবণতা এখন আর নেই। গ্রামেও নিজের বাড়ি নির্মাণের মতো অর্থ সংস্থান করতে পারছে না সাধারণ মানুষ। তাই গ্রামীণ এলাকায় ভাড়ায় থাকার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ মূল্যবৃদ্ধি। সুতরাং মূল্যবৃদ্ধির হারের সঙ্গে এবার আবাসনও যুক্ত হয়ে যাওয়ায় আগামী বছর থেকে নতুন মূল্যহার নির্ধারিত হবে।