


সোমনাথ: কয়েকজন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নেতা দেশের গৌরবময় ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। গুজরাতের সোমনাথ মন্দিরে ধর্মীয় আগ্রাসনকে পাঠ্যবইতে স্রেফ লুট হিসেবে দেখানো হয়েছে। রবিবার সোমনাথ ‘স্বাভিমান পর্ব’ উদযাপনে নাম না করে এই ভাষাতেই কংগ্রেসকে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে উসকে দিলেন হিন্দুত্ববাদের ভাবনাও।
এক হাজার বছর আগে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেছিলেন গজনির সুলতান মামুদ। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই এই বিশেষ উৎসব। এদিন প্রথমে ‘শৌর্য যাত্রা’য় অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর সোমনাথ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। পুজো শেষে সদভাবনা ময়দানে ছিল ভাষণের আয়োজন। সেখানে বক্তব্যের শুরুতেই মোদি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরেও কিছু মানুষের মধ্যে ঔপনিবেশিক মানসিকতা রয়ে গিয়েছে। তাঁরাই দেশের গৌরবময় ইতিহাস মোছার চেষ্টা করেছিলেন। যাঁরা সোমনাথ মন্দিরের জন্য লড়াই করেছিলেন তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। ধর্মীয় আগ্রাসনকে লুট আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ধনদৌলত লুট করার জন্যই সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করা হয়েছিল। পাঠ্যবইয়ে আমাদের এটাই শেখানো হয়েছে। লুকিয়ে রাখা হয়েছে হিংসা ও সন্ত্রাসের ইতিহাস।’ এরপরেই নাম না করে বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘স্বাধীনতার পর সোমনাথ মন্দির সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। সেই সময়ে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল। ১৯৫১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের সোমনাথ আসা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়। দুর্ভাগ্যবশত, সেই শক্তিগুলি আজও সক্রিয় রয়েছে। তলোয়ারের জায়গা নিয়েছে দেশের বিরুদ্ধে করা গোপন ষড়যন্ত্র। তাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’মোদি আরও বলেন, ‘ভারতে সোমনাথের মতো একাধিক পবিত্র স্থান রয়েছে। যা আমাদের শক্তি, ঐতিহ্যের প্রতীক। তবে স্বাধীনতার পরেও কিছু মানুষের মধ্যে গোলামির মানসিকতা রয়ে গিয়েছে।’ সোমনাথ সফর শেষে এদিন রাজকোটে যান প্রধানমন্ত্রী।