নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর চালু হয়েছে। তারপরই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা উত্তর ২৪ পরগনায় বহু মানুষের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বসিরহাটে শুরু হওয়া সিএএ ক্যাম্পে ভিড় বাড়ছে উদ্বাস্তু মানুষের। তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য, নাম বাদ পড়ার আগে সিএএ’র আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে রাখা। সকাল থেকে তাই ক্যাম্পের চারপাশে চিন্তাগ্রস্ত মানুষের ভিড়। কেউ ফাইল বগলদাবা করে ঘুরছেন, কারও কাঁধে ব্যাগভর্তি পুরনো দলিল। চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। কেউ কেউ বলছেন, ‘যদি নাগরিকত্ব চলে যায়!’ এসআইআরের নাম শুনেই যেন চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে! ক্যাম্পের উদ্যোক্তারাও বলছেন, ‘আমরা স্রেফ আবেদন করাচ্ছি। পরে কী হবে, জানি না।’ শিবিরে গিয়ে দেখা গেল, আবেদনকারীদের হাতে নানারকম নথি। যেমন, স্কুল সার্টিফিকেট, জমির দলিল, আধার, রেশন কার্ড, প্যান, ভোটার আইডি, বিদ্যুৎ বিল। অনেকে সঙ্গে এনেছেন মতুয়া মহাসংঘের কার্ডও। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অনেকে রাতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, যাতে সকালে ফর্ম পাওয়া যায়। ভোলা মণ্ডল নামে এক মাঝবয়সি ব্যক্তি বলেন, ‘এসআইআর হবে। তাই ভয়ে সিএএ-তে নাম লেখাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে গোপনে ভারতে এসেছি। যাতে আবার চলে যেতে না হয়, তার জন্যই সিএএ-তে নাম তুলছি।’ ক্যাম্পে আসা সুমন মণ্ডল বলছিলেন, ‘আমরা থাকতাম বাংলাদেশে। ধর্মীয় কারণে ওই দেশ থেকে এখানে এসেছি অনেক বছর আগে। সিএএ’র ফর্ম ফিলাপ করে রাখছি নাগরিকত্বের জন্য। কারণ এসআইআর চালু হয়ে গিয়েছে। এসআইআরের যখন সার্ভে হবে, তখন এই আবেদন আমরা দেখাব। আমরা ভারতে এসে তৈরি করা বিভিন্ন নথি দিয়েই সিএএ-তে আবেদন করছি।’



