Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর ঘোষণা হতেই বসিরহাটে সিএএ ক্যাম্পে ভিড় বাড়ছে উদ্বাস্তুদের, সীমান্তবর্তী এলাকায় ছড়াচ্ছে আতঙ্ক

মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর চালু হয়েছে। তারপরই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা উত্তর ২৪ পরগনায় বহু মানুষের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বসিরহাটে শুরু হওয়া সিএএ ক্যাম্পে ভিড় বাড়ছে উদ্বাস্তু মানুষের।

এসআইআর ঘোষণা হতেই বসিরহাটে সিএএ ক্যাম্পে ভিড় বাড়ছে উদ্বাস্তুদের, সীমান্তবর্তী এলাকায় ছড়াচ্ছে আতঙ্ক
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর চালু হয়েছে। তারপরই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা উত্তর ২৪ পরগনায় বহু মানুষের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বসিরহাটে শুরু হওয়া সিএএ ক্যাম্পে ভিড় বাড়ছে উদ্বাস্তু মানুষের। তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য, নাম বাদ পড়ার আগে সিএএ’র আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে রাখা। সকাল থেকে তাই ক্যাম্পের চারপাশে চিন্তাগ্রস্ত মানুষের ভিড়। কেউ ফাইল বগলদাবা করে ঘুরছেন, কারও কাঁধে ব্যাগভর্তি পুরনো দলিল। চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। কেউ কেউ বলছেন, ‘যদি নাগরিকত্ব চলে যায়!’ এসআইআরের নাম শুনেই যেন চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে! ক্যাম্পের উদ্যোক্তারাও বলছেন, ‘আমরা স্রেফ আবেদন করাচ্ছি। পরে কী হবে, জানি না।’ শিবিরে গিয়ে দেখা গেল, আবেদনকারীদের হাতে নানারকম নথি। যেমন, স্কুল সার্টিফিকেট, জমির দলিল, আধার, রেশন কার্ড, প্যান, ভোটার আইডি, বিদ্যুৎ বিল। অনেকে সঙ্গে এনেছেন মতুয়া মহাসংঘের কার্ডও। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অনেকে রাতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, যাতে সকালে ফর্ম পাওয়া যায়। ভোলা মণ্ডল নামে এক মাঝবয়সি ব্যক্তি বলেন, ‘এসআইআর হবে। তাই ভয়ে সিএএ-তে নাম লেখাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে গোপনে ভারতে এসেছি। যাতে আবার চলে যেতে না হয়, তার জন্যই সিএএ-তে নাম তুলছি।’ ক্যাম্পে আসা সুমন মণ্ডল বলছিলেন, ‘আমরা থাকতাম বাংলাদেশে। ধর্মীয় কারণে ওই দেশ থেকে এখানে এসেছি অনেক বছর আগে। সিএএ’র ফর্ম ফিলাপ করে রাখছি নাগরিকত্বের জন্য। কারণ এসআইআর চালু হয়ে গিয়েছে। এসআইআরের যখন সার্ভে হবে, তখন এই আবেদন আমরা দেখাব। আমরা ভারতে এসে তৈরি করা বিভিন্ন নথি দিয়েই সিএএ-তে আবেদন করছি।’

Advertisement

এদিকে, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের মন্তব্য নিয়েও চলছে জোর চর্চা। কয়েকদিন আগে তিনি বলেছিলেন, ‘এসআইআরে কারও নাম বাদ গেলে সিএএ’র মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’ তাঁর ওই মন্তব্যের পরই উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন সিএএ ক্যাম্পে ভিড় বাড়ছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। অনেকে বলছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পর বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষজন ধরেই নিয়েছেন, নাম বাদ পড়বেই। 
তাই আগে থেকে সিএএ-তে নাম লেখানোই নিরাপদ। স্থানীয়দের বক্তব্য, আতঙ্কই এখন তাঁদের চালনা করছে। রাজনীতির প্যাঁচপয়জার বুঝতে না পেরে বহু মানুষ এখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ যেমন বললেন, ‘আমরা রাজনীতি করি না। একটাই দাবি, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেউ যেন না বলে, তোমরা ভারতীয় নও।’ ক্যাম্পের উদ্যোক্তা দুলাল রায় বলেন, ‘এসআইআর ঘোষণা হয়েছে। তাই অনেকে এখানে সিএএতে আবেদন করছেন। কিন্তু পরে কী হবে, আমাদের জানা নেই। সেটা জানে কেন্দ্রীয় সরকার।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ