Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রিলসে আয় বেশি, স্কুল ছেড়ে শ্যুটিংয়ে পড়ুয়ারা

নিত্যনতুন কনটেন্টে রিলস বানাতে পারলেই কেল্লাফতে। অ্যাকউন্টে ঢুকছে টাকা।

রিলসে আয় বেশি, স্কুল ছেড়ে শ্যুটিংয়ে পড়ুয়ারা
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নিত্যনতুন কনটেন্টে রিলস বানাতে পারলেই কেল্লাফতে। অ্যাকউন্টে ঢুকছে টাকা। দামি মোবাইল বা ঘড়ি বা অন্যান্য শখের জিনিসপত্র কিনতে কারও কাছে হাত পাততে হচ্ছে না। তাই ক্লাস ছেড়ে শ্যুটিং স্পটে ছুটছে পড়ুয়ারা। ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা রয়েছে। সম্প্রতি ড্রপআউটের কারণ খুঁজতে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা ময়দানে নেমেছেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলছেন। অনেকগুলি কারণের মধ্যে রিলসের প্রতি নেশার বিষয়টিও আধিকারিকরা খুঁজে পেয়েছেন। ড্রপআউট বন্ধ করতে মঙ্গলবার জেলাশাসক আয়েশা রানি এ সমস্ত ব্লকের বিডিও এবং অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। স্কুলছুটদের পুনরায় স্কুলের আঙিনায় ফেরানোর জন্য জেলাশাসক নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক পড়ুয়াকে স্কুলে ফেরানো গিয়েছে। আগামী দিনেও আরও অনেককে ফেরানো হবে। স্কুলগুলিতে কাউন্সেলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের স্কুলগুলিতে ড্রপআউটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আধিকারিকরা অভিযানে গিয়ে তিনটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন। প্রথমত, নাবালিকারা মাঝপথে পড়া বন্ধ করে বিয়ের পিড়িঁতে বসছে। এর নেপথ্যেও রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। সামাজিক মাধ্যমে অল্পদিনের পরিচয়ে অনেকেই ঘর ছাড়ছে। কেউ কেউ ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিস রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড এবং বিহার থেকে বেশ কয়েকজন নাবালিকাকে উদ্ধার করে এনেছে। 
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, অনেক পরিবারে অভিভাবকরা সচেতন নয়। ছেলেমেয়েরা আচমকা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করলেও তাঁদের ভ্রূক্ষেপ থাকে না। অনেক সময় অভিভাবকরাই ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত করছেন। তৃতীয় কারণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বানানোর নেশা। প্রত্যন্ত গ্রামেও বহু কিশোর-কিশোরীরা ‘টিম’ তৈরি করে রিলসে মগ্ন হয়ে পড়ছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, স্কুলছুটদের ফের ক্লাসে ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাফল্যও পাওয়া গিয়েছে। কয়েকদিন আগে জোতরাম বিদ্যাপীঠের এক ছাত্রকে ক্লাসে ফেরানো হয়েছে। তাকে উৎসাহিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। স্কুলে ভর্তি হতেও তাকে ফি দিতে হয়নি। তালিত হাইস্কুলের ১৩জন পড়ুয়াকেও নতুন করে ক্লাসে আনা হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ৫০জন পড়ুয়াকে শিক্ষার আঙিনায় নতুন করে আনা হয়েছে। 
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষাদপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, পড়াশোনা শিখলে অনেক বেশি আয় করা যাবে। রিলস বানিয়ে স্থায়ী উপার্জন করা যাবে না। সাময়িক কিছুদিনের জন্য আয় হতে পারে। সেটা অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের বোঝানো হচ্ছে। ড্রপআউট বন্ধ করতে আধিকারিকদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। জনপ্রতিনিধিদেরও উদ্যোগ নিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া দেখে প্রভাবিত হওয়া ঠিক নয়। অল্পবয়সিদের কিছু টাকা দিয়ে অনেকে কাজে লাগাচ্ছে। অনেক সময় শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বানানোর ক্ষেত্রে কিছু গাইডলাইনও আনা দরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ