সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রঘুনাথগঞ্জের জরুর গ্রামের বালি ব্যবসায়ী যুবক কায়েম শেখ ওরফে রকির খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করলো পুলিশ। সোমবার সকালে তিন ধৃত মাসিদুল শেখ ওরফে রাজা, আব্দুল কায়েম ও অসীম আলিকে জরুর গ্রামের ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। যদিও অপর ধৃত মহিলা চুমকি বিবিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেনি পুলিশ। ধৃতরা খুন হওয়া রকির পুতুল নিয়ে খুনের ঘটনার অভিনয় করে দেখায় পুলিশকে। ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করে পুলিশ। রকিকে মাঠে ডেকে কোদালের বাঁট দিয়ে আচমকাই আঘাত করে রাজা। ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাকে চ্যাংদোলা করে পুকুর পাড়ে নিয়ে গিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারপর জলে ফেলে দেয়। খুনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাগান সংলগ্ন জলাশয়ের ঝোপজঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়। সেসব সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। খুন হয়ে যাওয়া যুবকের দু’'টি মোবাইলের একটি ভাঙাচোরা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, মহিলা বাদে ওই তিন অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। কীভাবে যুবককে খুন করা হয়েছে তা তারা অভিনয় করে দেখায়। খুনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গোটা বিষয়ের তদন্তে করে দেখা হচ্ছে।
এদিন সকালে পুলিশি প্রহরায় তিন অভিযুক্তকে জরুর গ্রামের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। জঙ্গিপুর-বীরভূম রাজ্য সড়ক থেকে নেমে জমির আলপথ ধরে ৫০০ মিটার দূরে জরুর গ্রামের তালতলা মাঠ। ঘটনার রাতে তালতলায় জমিতে জল সেচ দেওয়ার স্যালো মেশিনের ঘরের পিছনে চার যুবক গল্প করছিল। খুড়তুতো ভাই মাসিদুল শেখ ওরফে রাজা আচমকাই পিছন দিক থেকে কোদালের বাঁট দিয়ে রকির মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই ধানের জমিতে রকি লুটিয়ে পড়ে। রকির গলা দড়ি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। জমি থেকে ওই যুবককে চ্যাঙদোলা করে বেশ কিছু দূরে পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। পুকুর পাড়ে নিয়ে গিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতেই কোদাল দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করে রাজা। তারপর তাকে পুকুরে ফেলে দেয়। কোদাল, দড়ি, গ্লাভস ও মোবাইল ঘটনাস্থল থেকে আরও কিছুটা ঘাস ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে ফেলে দেয়। এই সরঞ্জামগুলি ফেলার আগে রকির মোবাইল ভাঙা হয়। তিন অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে খুনে ব্যবহৃত সেসব সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
তিন অভিযুক্তের সঙ্গে মহিলা চুমকি বিবির সম্পর্ক রয়েছে। খুন হয়ে যাওয়া রকি সেই সম্পর্কের কথা জেনে যায়। তাদের সম্পর্কের কথা মহিলার স্বামী জানতে পারলে বিপদ হতে পারে এই আশঙ্কা ছিল চুমকির। সৌদি প্রবাসী মহিলার স্বামীর সঙ্গেও রকির বন্ধুত্ব ছিল। সম্পর্কের কথা স্বামীকে জানিয়ে দিতে পারে এই আশঙ্কায় খুনের পরিকল্পনা বলে জেরায় স্বীকার করেছে ধৃতরা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মৃত যুবকের কাকা তাজিমুদ্দিন শেখের কথায়, আমি ঘটনার পুননির্মাণ দেখতে ঘটনাস্থলে যাইনি। ঘটনার পর কাজকর্মেও মন দিতে পারিনি। আমরা সাধারণ মানুষ। কাজ না করলে সংসারে হাড়ি চড়বে না। কে জানতো এক ভাইপো আরেক ভাইপোকে খুন করবে বসবে?