Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টিতে ভেজা ধান বিক্রি করা যাচ্ছে না, আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা

ভিজে ধান নিয়ে চাষিদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি কয়েকবার বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে জল জমে গিয়েছে।

বৃষ্টিতে ভেজা ধান বিক্রি করা যাচ্ছে  না, আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভিজে ধান নিয়ে চাষিদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি কয়েকবার বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে জল জমে গিয়েছে। হাওয়ায় ধান মাটিতে পড়ে গিয়েছে। ভিজে ধান কেটে চাষিরা ঘরে তুললেও তা ব্যবসায়ীরা কিনতে চাইছেন না। সরকারও এখনও তেমনভাবে ধান কিনতে শুরু করেনি। চাষিরা বলেন, ভিজে ধান বিক্রি হচ্ছে না। বাড়িতে জমিয়ে রাখলে তা কালো হয়ে যাচ্ছে। সেই ধানের দাম পাওয়া যাবে না। বাধ্য হয়ে পিচ রাস্তায় অনেকে ধান শুকাচ্ছেন। মেমারির বড়পলাশন গ্রামের চাষি শেখ গালিব বলেন, এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেলে। ধান কেটে তড়িঘড়ি করে তা মেশিনে ঝাড়াই বাছাই করতে হচ্ছে। তাতে খড় পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ভিজে ধান সরকার ক্রয়কেন্দ্রে কিনতে চাইছে না। খোলা বাজারেও তা বিক্রি হচ্ছে না। বাড়িতে জমিয়ে রাখলে ধান আর বিক্রি হবে না। সেই কারণে অনেকে ক্ষতি করেও কম দামে ধান বিক্রি করছেন। আরেক চাষি রাজু দত্ত বলেন, শেষ মুহূর্তে বৃষ্টি না হলে এবার চাষিরা লাভের মুখ দেখতেন। ধান ভিজে যাওয়ায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। সবার ধান শুকানোর জন্য বড় খামার নেই। অনেকে বাধ্য হয়ে রাস্তায় ধান শুকাতে বাধ্য হচ্ছেন। দুর্ঘটনা হওয়ায় পুলিস রাস্তায় ধান শুকাতে দিচ্ছে না। ভিজে ধান গোলাতেও তোলা যায় না। বাড়ির কোথাও ডাঁই করে রাখতে হচ্ছে।

Advertisement

খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে ধান কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এবারও চাষিরা সর্বোচ্চ ৯০ কুইন্টাল পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন। প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম দু’হাজার ৩০০ টাকা দেওয়া হবে। সিপিসিতে ধান নিয়ে যাওয়া হলে চাষিরা বাড়তি আরও ২০ টাকা উৎসাহ ভাতা পাবেন। তবে ধান বিক্রির জন্য চাষিদের নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া কেউ ধান বিক্রি করতে পারবেন না। চাষিরা অবশ্য বলছেন, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করা বেশ ঝক্কির। তাছাড়া ভিজে ধান নিয়ে যাওয়া হলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাতে চাষিদের বেকায়দায় পড়তে হয়। সেই কারণে তাঁরা কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক জায়গায় আবার ব্যবসায়ীরা কম দামেও খোলাবাজারে ধান কিনতে চাইছে না। তবে যাঁরা শুকনো অবস্থায় ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন, তাঁরা লাভের মুখ দেখছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ