সংবাদদাতা, বহরমপুর: ঈদে মুর্শিদাবাদ জেলার বহু পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফেরেন। স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় এই সময় অনেকেই ট্রেনের টিকিট পাচ্ছেন না। ট্রেন ছাড়া অন্য কোনওভাবে বাড়ি ফেরার মতো সামর্থ্য অনেকেরই নেই। তাই ঈদের মরশুমে অতিরিক্ত প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানোর দাবিতে রেলমন্ত্রককে চিঠি দিল রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের মুর্শিদাবাদ শাখা। কিন্তু, এখনও রেলমন্ত্রকের তরফে অতিরিক্ত প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানোর আশ্বাস না মেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, হাওড়া-আজিমগঞ্জ-মালদহ এবং শিয়ালদহ লালগোলা ডিভিশনে যাত্রীর তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা খুবই কম। ঈদের সময় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ঘরে ফেরার আশায় রয়েছেন। ট্রেনের অভাবে বহু শ্রমিক ফিরতে পারছেন না। তাঁদের জন্যই অতিরিক্ত ট্রেনের দাবি জানিয়েছি। আইপিএলের জন্য বাড়তি ট্রেন দেওয়া হলে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার জন্য কেন দেওয়া যাবে না? আমাদের দাবি, তাড়াতাড়ি তাঁদের জন্য অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা করা হোক।
মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েকলক্ষ মানুষ বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। সিংহভাগ শ্রমিক নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত। সরকারি হিসেবে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক দেশ ও দেশের বাইরে রয়েছেন। বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা ১০লক্ষেরও বেশি বলে পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের দাবি।
অতিরিক্ত ট্রেনের দাবিতে ১০মার্চ ঐক্য মঞ্চের তরফে রেলমন্ত্রকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী অধীর চৌধুরীও রেলমন্ত্রকে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু, রেলের তরফে কোনও আশ্বাস মেলেনি।
রেল সূত্রে খবর, সংরক্ষিত আসনের চাহিদার উপর বিচার করেই বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ট্রেন দেওয়া হয়। কিন্তু, যেহেতু অসংরক্ষিত আসনের যাত্রীর হিসেব থাকে না-তাই অসংরক্ষিত আসনের যাত্রীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয় না।
ঐক্য মঞ্চের দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই সংরক্ষিত আসনের টিকিট কাটার সামর্থ্য নেই। তাঁরা কম ভাড়ায় অসংরক্ষিত টিকিটেই ফিরতে চান। হাওড়া-আজিমগঞ্জ এবং শিয়ালদহ-লালগোলা ডিভিশনে কয়েকদিন অরিরিক্ত ট্রেনের দাবি জানানো হয়েছে। লালগোলার বাসিন্দা লিয়াকত হোসেন মুম্বইয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, কীভাবে ঘরে ফিরব জানি না। এবার হয়তো ফেরা হবে না। ওড়িশায় নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন রেজাউল শেখ। তিনি বলেন, ট্রেনের জেনারেল কামরায় গাদাগাদি করে ছাগল-গোরুর মতো যেতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্ভোগ কমত।