নয়াদিল্লি: ‘রাম’ বিতর্কে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রামকে ‘পৌরাণিক চরিত্র’ বলায় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে তেড়েফুঁড়ে আসরে নামল বিজেপি। তাঁকে ‘হিন্দু বিরোধী’ ও ‘রাম বিরোধী’ তকমা দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এরইমধ্যে ১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী হিংসার জন্য দায় স্বীকারও করেছেন রায়বেরিলির সাংসদ।
সম্প্রতি আমেরিকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রাহুল। দেশে হিন্দু জাতীয়তাবাদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে রাহুল বলেন, ‘ভারতের মহান সমাজ সংস্কারক এবং চিন্তাবিদরা কেউই ধর্মান্ধ ছিলেন না। বিজেপির সঙ্গে হিন্দু আদর্শের কোনও মিল নেই।’ এপ্রসঙ্গেই তিনি বলেন, ‘আমাদের পৌরাণিক চরিত্রগুলির মধ্যে ভগবান রামও রয়েছেন। তিনি ক্ষমাশীল ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। হিন্দুত্ব হল বহুত্ববাদী ও সহনশীল। দেশের প্রতিটি রাজ্য এমন বহু মানুষ রয়েছেন, তাঁরা এই ধারনায় বিশ্বাসী। গান্ধীজিও তাঁদের মধ্যে একজন। ভয় থেকেই মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও ক্রোধের জন্ম নেয় বলে আমি মনে করি।’ বিজেপিকে ‘প্রান্তিক গোষ্ঠী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর এই মন্তব্যের সমালোচনায় সরব বিজেপি। দলের মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহীর পর এখন রামদ্রোহী কংগ্রেস। ওরা রামমন্দির নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল। এখন প্রভু রামকে ‘পৌরাণিক বা কাল্পনিক চরিত্র’ বলছে। এই কারণে রামমন্দিরের উদ্বোধনে রাহুল ও সোনিয়া গান্ধী যোগ দেননি। বিজেপির মুখপাত্র সি আর কেশবন সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলের বক্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, ২০০৭ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল, ভগবান রামের কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। কংগ্রেসের সঙ্গী ডিএমকে বলেছিল, কোনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাম ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন, ইতিহাসে কোথাও তার উল্লেখ নেই। হিন্দু ধর্মকে উপহাস করাই হল কংগ্রেসের উদ্দেশ্য।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অনুষ্ঠানে শিখ বিরোধী হিংসার দায়স্বীকার করে নেন রাহুল। তিনি বলেন, কংগ্রেসের ইতিহাসের অন্যতম ভুল। সেই সময় আমি রাজনীতিতে ছিলাম না। প্রয়োজনে ওই ভুলের দায়স্বীকার করে নিতে প্রস্তুত।
এদিকে সংসদে রাহুলের মনুস্মৃতি বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করলেন বদ্রীনাথের জ্যোর্তিমঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। তাঁর ঘোষণা, রাহুল গান্ধী আর হিন্দুধর্মের অংশ নন। মনুস্মৃতি নিয়ে তাঁর বক্তব্যের জবাব চাওয়া হলেও দেননি। ধর্মগ্রন্থকে অপমান করা ব্যক্তিকে আর হিন্দুধর্মে স্থান দেওয়া যাবে না।