অভিষেক পাল: একসময় রঘু ডাকাত নরবলি দিতেন এই মা কালীর পুজোয়। মুর্শিদাবাদের প্রাচীন কালী মন্দিরের অন্যতম জিয়াগঞ্জের আমাইপাড়া কালীমন্দির। আজও পুরনো প্রথা মেনেই হয়ে আসছে জিয়াগঞ্জের আমাইপাড়া বুড়িকালী মাতা ঠাকুরাণীর পুজো। যদিও আমাইপাড়া বুড়ি কালীর পুজো ঠিক কত সাল থেকে শুরু হয় তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য জানা যায় না।
কথিত আছে, একটা সময় এই আমাইপাড়া ঘন জঙ্গলে ভর্তি ছিল। হিংস্র জন্তুর ভয়ে তেমন কেউ আসতেন না এলাকায়। ওই সময় এক পরিব্রাজক সাধনায় বসেন এখানে। পরে ধ্যান ভাঙার পর যখন ওই পরিব্রাজক সেই স্থান ত্যাগ করেন, ওই সময় আশপাশের কিছু গ্রামবাসীদের বলে যান যে, এই স্থানের বেশ মাহাত্ম্য আছে। তাই এই জায়গার লালন পালন করার জন্য উপদেশ দেন তিনি।
জনশ্রুতি রয়েছে, তারপর এই স্থানে এসে কালীপুজোর শুরু করেন রঘু ডাকাত। তবে রঘু ডাকাতের নামে অনেক কালী পুজোই প্রচলিত। প্রকৃত রঘু ডাকাত কোন কালীপুজো করতেন, তা নিয়ে নানা জনের নানা মত। ওই সময়ই পঞ্চমুণ্ডির আসন তৈরি করে সেখানে পুজো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলেও জনশ্রুতি। আমাইপাড়া বুড়ি কালী নিয়ে এলাকায় অনেক অলৌকিক কথা প্রচলিত আছে। বহু বছর আগে কালী মন্দিরের পিছনে থাকা পুকুর সংস্কারের সময় একাধিক নরকঙ্কাল মিলেছিল। তা থেকে অনুমান করা হয় যে রঘু ডাকাতের সময় নরবলি দেওয়া হতো এখানে।
তারপর রঘু ডাকাত সেই স্থান ত্যাগ করে যাওয়ার পর আমাইপাড়া বুড়ি কালির পুজো ধরেন স্থানীয় এক ব্রাহ্মণ ও তাঁর মা। কিন্তু হঠাৎই মৃত্যু হয় ওই ব্রাহ্মণের। তারপর আমাইপাড়া বুড়ি কালীর পুজোতে যারা এগিয়ে এসেছে তাদেরই কোনও না কোনও ক্ষতি হয়। এমনকি রঘু ডাকাত পর্যন্ত কালীপুজো ঠিক মতো করতে পারেননি বলে জনশ্রুতি। এলাকার মানুষের দাবি, যখন কালীপুজো কেউ ঠিকঠাক ভাবে করতে পারছিল না। তারপর মৃত ব্রাহ্মণের মা আমাইপাড়া বুড়ি কালীর পুজোর জন্য অনুরোধ জানান ভট্টপাড়ার ব্রাহ্মণ কৈলাসচন্দ্র ভট্টাচার্যকে তিনিই স্বেচ্ছায় পুজো করতে রাজি হন। যদিও কৈলাসচন্দ্র ভট্টাচার্য জানতেন এর আগে যারা পুজো করেছে তাদের সকলের ক্ষতি হয়েছে। তবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করার পর থেকে আর কোনও বিপদ ঘটেনি।
আমাইপাড়া বুড়ি কালী নিয়ে এলাকায় অনেক অলৌকিক কথা প্রচলিত আছে। শোনা যায়, অনেকেই নাকি আমাইপাড়া বুড়ি কালীকে দেখেছেন। কিন্তু যারা দেখেছেন, তারা একথা বাইরে বলার পর কোনও না কোনও কারণে মৃত্যু হয়েছে, বলেই দাবি স্থানীয়দের।
সারা বছর মন্দিরে বুড়ি কালীর মৃন্ময়ী প্রতিমা থাকে। সারা বছর শনি ও মঙ্গলবার জেলা তো বটেই জেলার বাইরে থেকেও লোকজন আসে পুজো দিতে। তবে কালীপুজোর সময় ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন হয়। পুজো উপলক্ষ্যে মেলাও বসে মন্দির পার্শ্ববর্তী মাঠে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ পুণ্য লাভের আশায় এখানে পুজো দিতে আসেন।