Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তৈরি ক্যুইক রেসপন্স টিম, নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে

দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর রাতারাতি দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়ানো হল।

অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তৈরি ক্যুইক রেসপন্স টিম, নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর রাতারাতি দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়ানো হল। নজরদারির জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জাম আনা হয়েছে। অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সহ গড়া হয়েছে কিউআরটি(ক্যুইক রেসপন্স টিম)। ২৪ঘণ্টাব্যাপী মেন গেটের সামনে ওই টিম থাকছে। প্রতিদিন সিনিয়র পুলিশ অফিসাররা দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে ভিজিটে যাবেন বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। ব্যাগপত্র চেকিংয়ের জন্য স্ক্যানার, ভিড়ে নজরদারি করতে দু’চাকার ফ্রিগো মোবাইল, ই-সাইকেল নামানো হয়েছে। প্রত্যেক গেটে ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর(ডিএফএমডি) লাগানো হয়েছে। স্ক্যানার দিয়ে ব্যাগপত্র চেকিং করা হচ্ছে।

Advertisement

দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে প্রতিদিন কয়েক হাজার ভক্তের ঢল নামছে। এখানকার স্থাপত্য লক্ষ লক্ষ মানুষের নজর কাড়ছে। এখানকার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীঘা জগন্নাথ ধাম পুলিশ স্টেশন গড়া হয়েছে। মন্দিরের সুরক্ষায় ২০০এজেন্সি নিযুক্ত কর্মী ছাড়াও প্রায় ৫০জন পুলিশ অফিসার ও কর্মী আছেন। ভিড়ের মধ্যে নজরদারি চালাতে চারটি ফ্রিগো মোবাইল দেওয়া হয়েছে। দু’চাকার এই যানে চড়ে দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে নজরদারি চালানো যায়। এছাড়াও, ১২টি ই-সাইকেল দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে যান পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। পুলিশ অফিসার ও কর্মীরা নজরদারি চালানো বিভিন্ন সরঞ্জামের ট্রায়াল রান দেন। ই-সাইকেলেও নজরদারি চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মন্দিরের মূল গেটের সামনে পাঁচজনের কিউআরটি টিম সর্বক্ষণের জন্য প্রস্তুত থাকছে। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থাকছে। প্রতিটি গেটে মেটাল ডিটেক্টরের পাশাপাশি সর্বত্র সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নজরদারিতে কোনওরকম ফাঁকফোঁকড় রাখা হয়নি।
বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) শুভেন্দ্র কুমার এবং ডিএসপি(ডিঅ্যান্ডটি) আবুনূর হোসেন নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে মন্দিরে যান। প্রতিদিন ইন্সপেক্টর, ডিএসপি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার অফিসার পালা করে মন্দিরের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে যাবেন। দীঘা-ওড়িশা বর্ডারে ২৪ঘণ্টাব্যাপী নাকা চেকিং চলছে। এছাড়াও, বিচ পেট্রলিং এবং বাইকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিদেশিরা এলে তাঁদের থেকে সি ফর্ম জোগাড় করছে পুলিশ। মন্দির চত্বরে লাগানো প্রায় ২০০টি সিসি ক্যামেরায় কন্ট্রোলরুম থেকে নজরদারি চলছে। এছাড়াও, কোস্টাল থানা এলাকায় নজরদারি বেড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) বলেন, প্রত্যেকদিন সিনিয়র অফিসাররা দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের নজরদারি খতিয়ে দেখছেন। প্রতিটি প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর লাগানো আছে। মন্দিরের ভিতরে ঢোকার সময় সর্বক্ষণ চেকিং করা হচ্ছে। এছাড়া, স্ক্যানার দিয়ে ব্যাগ স্ক্যান করা হচ্ছে। মেন গেটে কিউআরটি টিম ২৪ঘণ্টাব্যাপী থাকছে। কন্ট্রোলরুম থেকে ২৪ঘণ্টাব্যাপী মনিটরিং করা হচ্ছে। মন্দির ক্যাম্পাসে ও বাইরে সিসি ক্যামেরায় নজরদারি চলছে। বাংলা-ওড়িশা সীমানায় সর্বক্ষণের জন্য নাকা চেকিং চলছে।
মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে। নজরদারি বাড়াতে নানা ধরনের সরঞ্জামও আনা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ