নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দার্জিলিং জেলায় বিজেপির এমপি ও এমএলএদের কোটার টাকা খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুরসভার ডেপুটি মেয়র তৃণমূলের রঞ্জন সরকার বলেন, বিজেপির এমপি ও এমএলএরা এলাকা উন্নয়নের জন্য বছরে কয়েক কোটি টাকা পেলেও তাঁরা ছিটেফোঁটা উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। দূরবীন দিয়ে তাঁদের উন্নয়নমূলক কাজ খুঁজতে হচ্ছে। এজন্য পদ্ম শিবিরের এমপি ও এমএলএদের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য মানতে নারাজ বিজেপির এমপি রাজু বিস্তা। তিনি উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে তৃণমূল নেতাদের ডিবেটে বসার চ্যালেঞ্জ জানান। ছাব্বিশের ভোটের আগে তাঁদের এমন বাকযুদ্ধ সরগর রাজনীতির ময়দান।
দার্জিলিং জেলায় একটি লোকসভা এবং পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে লোকসভা কেন্দ্রটি বিজেপির দখলে। ২০২১ সালের নির্বাচনে শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া, দার্জিলিং ও কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্রগুলি কব্জা করে বিজেপি। বর্তমানে এমপি এলাকা উন্নয়নের জন্য দু’টি কিস্তিতে বার্ষিক ৫ কোটি টাকা এবং বিধায়করা দু’টি কিস্তিতে বার্ষিক ৭০ লক্ষ টাকা করে পান। সেই অর্থ খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
শুক্রবার শিলিগুড়িতে দলের জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক সম্মেলনে ডেপুটি মেয়র বলেন, পদ্ম শিবিরের সাংসদ ও বিধায়করা পদে পদে শিলিগুড়ি সহ বাংলার বদনাম করছেন। কিন্তু জেলাবাসীর জন্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করছেন না। দূরবীন দিয়েও তাঁদের উন্নয়নমূলক কাজের ছবি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমপি ও বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। কাজেই পদ্ম শিবিরের এমপি ও এমএলএদের উচিত কাজের খতিয়ান নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রটি গেরুয়া শিবিরের কব্জায়। এই কেন্দ্র যশোবন্ত সিং এবং সুরীন্দ্রর সিং আলুওয়ালিয়ার পর বিজেপির ঝান্ডা ধরেন বিস্তা। পর পর দু’বার নির্বাচনে জয়ী হন রাজু বিস্তা। তিনি বলেন, কোভিড মহামারীর সময় এলাকা উন্নয়ন তহবিলে ১৭ কোটি টাকা পেয়েছিলাম। তা নিয়ম অনুসারে খরচ করা হয়েছে। এবার এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে ৫ কোটি টাকা মিলেছে। তা বিজেপির ১০০ জন পঞ্চায়েত সদস্যর মধ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ভাগ করে দিয়েছি। সেই টাকায় স্কুলের ক্লাসঘর, গ্রামীণ রাস্তা, নিকাশি নালার কাজ হচ্ছে। এরবাইরে বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, আবাস যোজনা ও আম্রুত প্রকল্পে পুরসভাগুলিকে অর্থ প্রদান সহ প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র সরকার। এজন্য আমি দিল্লিতে একাধিকবার তদবির করছি। তাই আবলতাবল না বকে তৃণমূল নেতাদেরকে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম নিয়ে বিতর্কসভায় বসার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।
এদিকে, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, রাস্তা, স্কুলের ঘর নির্মাণ, সোলার লাইটের বাতিস্তম্ভ বসানো, অ্যাম্বুলেন্স প্রদান প্রভৃতি সহ প্রচুর প্রকল্প প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া আছে। তৃণমূলের কথা মতো সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলি অধিকাংশ আটকে রেখেছে রাজ্য। এ ধরনের রাজনীতি করে ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল সুবিধা করতে পারবে না।