সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর ও রঘুনাথপুর: ‘পুরুলিয়া এক্সপ্রেস বিষ্ণুপুরে আসছে রাত ১১টায়। আরণ্যক এক্সপ্রেস সাঁতরাগাছি পৌঁছচ্ছে রাত ১০টায়। আর কতদিন?’ এমনই ব্যানারে সোমবার বিষ্ণুপুর স্টেশনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করল কলকাতা প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন। এদিন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বিষ্ণুপুর স্টেশনের বাইরে জমায়েত করেন। তাঁরা প্লাটফর্মে ব্যানার টাঙিয়ে বক্তব্য রাখেন। পরে স্টেশন ম্যানেজারের কাছে দাবি স্মারকলিপি জমা দেন।
সংগঠনের এক কর্মকর্তা পেশায় বিষ্ণুপুর ব্লাড ব্যাংকের চিকিৎসক জয়মাল্য ঘর বলেন, বিষ্ণুপুর থেকে বিভিন্ন পেশার মানুষ কলকাতায় যাতায়াত করেন। কিন্তু পুরুলিয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি হাওড়া থেকে বিকাল ৪টা ৫০মিনিটে ছেড়ে বিষ্ণুপুরে রাত আটটা নাগাদ পৌঁছানোর কথা কিন্তু তা হাওড়া থেকেই ছাড়তে সাতটা পেরিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ দিন তা পৌঁছতে রাত ১১টা বেজে যাচ্ছে। অন্যদিকে একইভাবে আরণ্যক এক্সপ্রেস বিষ্ণুপুরে বিকাল ৩টা ৪০মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যায় হাওড়ায় পৌঁছানোর কথা। কিন্তু তা আসছে অনেক দেরিতে এবং হাওড়া পৌঁছতে রাত ১০টা বেজে যাচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে ওই রুটিনে ট্রেন চলছে। তাতে যাত্রীদের হয়রান হতে হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে এদিন আমরা বিষ্ণুপুর স্টেশনের ম্যানেজারের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছি।
আন্দোলকারীরা বলেন, কলকাতায় কাজে গিয়ে অধিকাংশ মানুষ তড়িঘড়ি করে নির্দিষ্ট সময়ে হাওড়া চলে আসেন। কিন্তু এসে দেখা যায় ট্রেনের কোনও খবরই নেই। আমরা চাই রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেনের সময় নির্দিষ্ট করে দিক। এভাবে সাধারণ যাত্রীদেরকে হয়রান করার কোনও অধিকার রেলের নেই। অন্যদিকে রবিবার বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আদ্রা ডিভিশন প্যাসেঞ্জার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিটির পক্ষ থেকে পুরুলিয়ার রামকানালি স্টেশন ম্যানেজারকে ডেপুটেশন দেন। সঠিক সময়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানো, কোভিডের পর থেকে বন্ধ থাকা আসানসোল-বোকারো প্যাসেঞ্জার পুনরায় চালু সহ মোট সাতদফা দাবিতে তাঁরা ডেপুটেশন দেন। সংগঠনের পক্ষে অনিল চন্দ্র বাউরি বলেন, রেলের আদ্রা ডিভিশন সাপ্তাহিক ব্লকের নাম করে পরিষেবা বন্ধ রেখে কার্যত ছেলেখেলা আরম্ভ করেছে। সাধারণ মানুষকে তার ফল ভুগতে হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রার ডিআরএম সুমিত নারুলা বলেন, কয়েকদিন ধরে চক্রধরপুর সহ কয়েকটি বেশ কিছু এলাকায় রেলের উন্নয়নের কাজ চলছে। তাতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। তবুও যাত্রীদের কথা ভেবে আমরা যতটা
সম্ভব পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র