নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ফের মাথা নত পাকিস্তানের। প্রবল কূটনৈতিক চাপে বাংলার বাসিন্দা, বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম সাউকে ভারতের হাতে তুলে দিল তারা। বীর জওয়ান দেশের মাটিতে পা দিতেই উৎসবের মেজাজ দুর্গাপুরে। পূর্ণমের শ্বশুরবাড়ি দুর্গাপুরে। ছুটি পেয়ে হুগলির বাড়িতে এলেই সস্ত্রীক শ্বশুরবাড়ি আসতেন তিনি। বুধবার সকাল থেকেই ট্রাঙ্করোডে জওয়ানের শ্বশুরবাড়িতে মানুষের ভিড়। চলছে মিষ্টিমুখ।
এদিকে, জামাই এলেই তাঁকে বীরের সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দুর্গাপুরবাসী। অন্যদিকে, বিপদের দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বারবার মেয়ের খোঁজ নিয়েছেন, তাতে আপ্লুত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পূর্ণমের শ্বশুর শিবধানী গুপ্ত বলেন, জামাইকে পাকিস্তান আটক করার পর থেকেই আমাদের নাওয়া খাওয়া লাটে ওঠে। জামাইকে দেখতে পাব তো? এই আশঙ্কাও মনে উঁকি দিত। আমাদের চরম বিপদে মুখ্যমন্ত্রী বারবার ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। আমাদের পরিবারের পাশে থেকেছেন, ওঁকে ধন্যবাদ। আমাদের ভরসা ছিল, জওয়ানকে ঠিক ফিরিয়ে আনবে ভারত সরকার।
পহেলগাঁওয়ে আক্রমণের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ। ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কও প্রায় শেষ। এই পরিস্থিতিতে ঘটে যায় বিপর্যয়। হুগলির রিষড়ার বাড়িতে খবর আসে বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম সাউকে আটক করেছে পাকিস্তান। খবর পৌঁছয় দুর্গাপুরের ট্রাঙ্ক রোডে পূর্ণমের শ্বশুরবাড়িতেও। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে গুপ্ত পরিবারের। পহেলগাঁওয়ের বদলার দাবিতে যখন সরব আসমুদ্র হিমাচল, তখন গুপ্ত পরিবারের উদ্বেগ, ‘পাকিস্তান জামাইকে বাঁচিয়ে রাখবে তো?’ ওই জওয়ান আটক থাকা অবস্থাতেও পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে পাকিস্তানও। তা নিয়েই দু’দেশের পাশাপাশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে বিশ্ব। এই অবস্থায় পূর্ণম ইস্যু কার্যত চাপা পড়ে যায়। জওয়ানের স্ত্রী রজনী সাউ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাতের ঘুম উবে গিয়েছিল তাঁর বাপেরবাড়ির লোকজনেরও। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করে আশ্বস্ত করেন। এমনকী, গর্ভবতী রজনীদেবী যখন পাকিস্তান বর্ডারে যেতে চেয়েছেন, তখন তাঁকে শান্ত করেছে মুখ্যমন্ত্রীর ফোনই। আজ যখন জামাই দেশে ফিরেছে, বিপদে পাশে থাকা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে ভোলেননি এই অবাঙালি পরিবার। শিবধানীবাবু বেনাচিতি বাজারে আলু বিক্রি করেন। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে। রজনীদেবী তাঁর দ্বিতীয় মেয়ে। জামাই পূর্ণমের অন্যতম পছন্দের শহর দুর্গাপুর। তাই ছুটি পেলেই এখানে আসতেন। তাঁর দেশে ফেরার খবরে শহরবাসীর মধ্যে বাড়তি আনন্দ দেখা যায়।
দুপুরে জওয়ানের শ্বশুরবাড়িতে মিষ্টি নিয়ে হাজির হন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় ও ব্লকের ছাত্রযুব সংগঠনের সদস্যরা। মিষ্টির পাশাপাশি তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দীঘার জগন্নাথদেবের ছবি ও প্রসাদ তুলে দেন। উজ্জ্বলবাবু বলেন, জামাই এলে তাঁকে আমরা অভ্যর্থনা জানাব।
বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, আবার প্রমাণ হল ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’। আমরা সবসময় ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম।