নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: উচ্চমাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য পেল পূর্ব বর্ধমানের ছাত্রছাত্রীরা। মেধা তালিকায় সাতজন পড়ুয়া স্থান করে নিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই মাধ্যমিকেও মেধা তালিকায় ছিলেন। এবারের মাধ্যমিকে বর্ধমান শহরের স্কুলগুলি তেমন দাগ কাটতে পারেনি। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকে শহর থেকেই তিনজন মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া ভাতার ও মেমারির দুই ছাত্রও মেধা তালিকায় জায়গা করে নজর কেড়েছে। বর্ধমান শহরের রূপায়ণ পাল রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। বর্ধমানে সুভাষপল্লির বাসিন্দা মেধাবী এই ছাত্রের টার্গেট চিকিৎসক হওয়া। সিএমএস হাইস্কুলের এই ছাত্র মাধ্যমিকে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি বলেন, সাফল্য ধরে রাখার জন্য মনে জেদ রাখতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা করাও দরকার। শহরের মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের দুই ছাত্র শুভম পাল ৪৯১ নম্বর পেয়ে সপ্তম এবং অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় ৪৮৮ নম্বর পয়ে দশম হয়ছেন। মাধ্যমিকে রাজ্যে দ্বিতীয় হয়ছিলেন শুভম। তিনি বলেন, পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট কোনও সময় ছিল না। টিউশন বা স্কুলের সময় বাদ দিয়ে নিজে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টাও পড়াশোনা করিনি। পড়াশোনার পাশপাশি গান শুনতে ভালোবাসি। আগামী দিন টার্গেট নিটে সফল হওয়া। শুভমের বাবা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। মা হাইস্কুলের শিক্ষক।
দশমস্থানে রয়েছেন শহরের গোলাহাটের অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বাবা সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। অর্ক বলেন, পড়াশোনা ছাড়া খেলা দেখতে ভালোবাসি। দিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। ভব্যিষতে আইআইটি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই।
মাধ্যমিকে পঞ্চম হয়ে নজর কেড়েছে ভাতার মাধব পবলিক হাইস্কুলের ছাত্র কুন্তল চৌধুরী। তিনি ৪৯৩ নম্বর পেয়েছেন। বলগোনার বাসিন্দা কুন্তলের বাবা এবং মা দু’জনেই শিক্ষকতার চাকরি করেন। কুন্তল বলেন, আগামী দিনে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। ভালো ফল হওয়ার সম্ভবনা ছিল। কিন্তু মেধা তালিকায় ঠাঁই পাবে বলে আশা করিনি। ভালো ফল করার জন্য দিনে আট থকে ন’ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। পড়াশোনার পাশাপাশি গল্পের বই পড়তে ভালোবাসি। এছাড়া ক্রিকেটও খুব প্রিয়।
উচ্চমাধ্যমিকে ৪৯২ নম্বর পেয়ে ষষ্ঠস্থানে রয়েছেন মেমারির জয়দীপ পাল। তিনি মেমারি বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের ছাত্র। তিনি বলেন, স্কুল ও গৃহশিক্ষকদের কাছে থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় জায়গা করতে পারিনি। কিছুটা আফসোস ছিল। তারপর থেকে পড়াশোনায় জোর দিয়েছিলাম। আরও একটু ভালো ফল প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে এই ফলাফলে সন্তষ্ট।
তবে রাজ্যের মেধা তালিকায় পূর্ব বর্ধমানের মধ্যে কাটোয়ার ছাত্রী দেবদত্তা মাঝি ষষ্ঠস্থান দখল করেছে। তিনি মাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম হয়েছিলেন। কাটোয়া শহরের ঋদ্ধিত পাল ৪৯৩ নম্বর পেয়ে পঞ্চমস্থানে রয়েছেন। তিনি মাধ্যমিকে সপ্তম হয়েছিলেন।