সংবাদদাতা, লালবাগ: বালুচরির পীঠস্থান জিয়াগঞ্জের তাঁতিপাড়ায় পুজোর বাজার জমে উঠছে। বালুচরি, সিল্ক ও তসরের শাড়ি, চুড়িদার, কুর্তি কিনতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। গত কয়েকদিন ধরে ক্রেতাদের ভিড়ে দিনভর গমগম করছে তাঁতিপাড়া। করোনাকাল থেকে ধুঁকতে থাকা তাঁতিপাড়ায় চলতি বছরে আগাম পুজোর বাজার শুরু হওয়ায় খুশির হাওয়া ব্যবসায়ী মহলে। তাঁদের আশা পুজোর বাকি দিনগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়বে। সেই সঙ্গে গত কয়েক বছরের মন্দা কাটিয়ে চাঙ্গা হবে তাঁতিপাড়া। তাঁতিপাড়ার শিল্পীরা এবছর পুজোর স্পেশাল হিসেবে গোলাপগরদ, তসর জামদানি, কলাক্ষেত্র, কালারিং গরদ বাজারে নিয়ে এসেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সব ক’টি ভ্যারাইটি ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। তবে গোলাপগরদ এবারের পুজোর বাজারে হটকেকের মতো বিকোচ্ছে।
জিয়াগঞ্জের সিল্ক ও গরদের সুনাম দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও রয়েছে। মুর্শিদাবাদ ঘুরতে আসা বিদেশি পর্যটকরা সময় পেলেই কেনাকাটার জন্য জিয়াগঞ্জে ছুটে আসেন। তাঁতিপাড়ার সিল্ক ব্যবসায়ী ও শিল্পীরা বলেন, এক দশক আগেও সারা বছর তাঁতিপাড়া জমজমাট থাকত। সকালে থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত তাঁত মেশিনের শব্দে সরগরম থাকত তাঁতিপাড়া। পুজোর মাস তিনেক আগে থেকে ব্যস্ততা বেড়ে যেত। ব্যবসায়ী ও মহাজনরা পুজোর স্পেশাল ডিজাইনের শাড়ি তৈরির জন্য শিল্পীদের বরাত দিতেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাপড় বুনে মহাজন বা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতে দিনরাত এক করে খাটতেন শিল্পীরা। পুজোর দু’মাস আগে থেকেই তাঁতিপাড়ায় ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হতো। খদ্দের সামলাতে হিমশিম খেতেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে ডিজিটাল যুগে অনেকেই ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে তাঁতিপাড়ায় ক্রেতাদের আনাগোনা কমতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁতিপাড়ার ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। কিন্তু অনলাইনে কেনাকাটায় বেশকিছু ক্ষেত্রে বিস্তর গরমিল সামনে আসায় ক্রেতারা তাঁতিপাড়ামুখী হচ্ছেন। আর তাতেই লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
সিল্ক ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ ধরিয়া বলেন, করোনার সময় থেকে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। সারা বছর একপ্রকার শুয়ে বসেই কাটাতে হতো। পুজোর আগে সপ্তাহ দুয়েক কিছু বেচাকেনা হতো। ফলে ব্যবসা টিঁকিয়ে রাখা একপ্রকার দায় হয়ে উঠেছিল। অপর ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ ধরিয়া বলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে পুজোর বাজার শুরু হয়েছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই ভিড় বাড়ছে। আশা করি পুজোর বাজারকে কেন্দ্র করে তাঁতিপাড়া মন্দা কাটিয়ে ছন্দে ফিরতে শুরু করবে।