নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: উত্তর হাওড়ার গোলমোহর-টিন্ডেলবাগান এলাকার রেল কোয়ার্টার চত্বর দীর্ঘদিন ধরেই মদ্যপান ও অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন স্থানীয় এক যুবক। তার জেরেই প্রাণ হারাতে হল তাঁকে। মৃত যুবকের নাম অমিতকুমার হেলা (৩৩)। অভিযোগ, গত সোমবার তাঁকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার জেরেই শুক্রবার মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় চার মহিলা সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোররাতে অমিত প্রস্রাব করতে কোয়ার্টার চত্বরে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় ঘুমের ঘোরে ভুলবশত তিনি পাশের কোয়ার্টারে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময় ওই ঘরে মদ্যপানের আসর চলছিল। তাঁকে দেখতে পেয়েই কয়েকজন তাঁকে ঘরের ভিতরে টেনে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর চলে মারধর। পরিবারের অভিযোগ, অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁকে আঘাত করা হয়, যার ফলে গুরুতর জখম হন তিনি। চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং তড়িঘড়ি হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সরস্বতী পুজোর দিন সকালে মারা যান অমিত। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান।
তঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এদিন রেল কোয়ার্টার এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অনেকের অভিযোগ, কয়েকটি কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরেই মদ, জুয়া ও অসামাজিক কাজের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কয়েকজন মহিলা বাইরের যুবকদের নিয়ে এসে অসামাজিক কাজ করত। অমিত একাধিকবার এনিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সেই আক্রোশ থেকেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয়। প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আরও চার মহিলাকে আটক করা হয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত করা হচ্ছে।’ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অমিতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। রেলকর্মী বাবার মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে কোয়ার্টারেই থাকতেন তিনি। হাওড়া পুরসভায় সাফাই বিভাগের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।