নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাকরিহারাদের অবস্থান বিক্ষোভ বিকাশ ভবনের সামনে থেকে উঠেও উঠছে না। মূল রাস্তা থেকে সরে গেলেও ফুটপাত এবং সার্ভিস রোডে আপাতত থাকছেন তাঁরা। তবে, মূল রাস্তায় গাড়ি চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ওই এলাকার নিত্যযাত্রীরা। আদালতের নির্দেশ মেনেই প্রশাসনের তরফে বিশাল ছাউনি, পর্যাপ্ত সংখ্যক বায়োটয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানীয় জলের ব্যবস্থা আগেও ছিল, এখনও রাখা হয়েছে। ময়ুখ ভবনের উল্টোদিকে এই জায়গাটি মূল অবস্থানস্থল থেকে বড়জোর ৫০ মিটার দূরে। তাও কেন সেখানে উঠে যাচ্ছেন না তাঁরা? আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দুর্যোগ আসছে। এর মধ্যে অস্থায়ী ছাউনিতে থাকা সম্ভব নয়। তাছাড়া, সেখানে পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। সে কারণেই তাঁরা এখন বিকাশ ভবন মেট্রো স্টেশনের নীচে, পুরনো জায়গাতেই থেকে যেতে চান।
আন্দোলনকারীদের এই সিদ্ধান্তে সরাসরি আদালতের নির্দেশ অমান্য হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁরা সেখান থেকে সরে যাবেন, কার্যত এই শর্তেই আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে নরম হতে বলেছিল পুলিস প্রশাসনকে। এমনকী, তাঁদের নেতাদের করা শোকজও মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে কার্যকর করতে নিষেধ করা হয়। তবে, তাঁদের এই সিদ্ধান্ত আদালত কীভাবে নেয়, সেটাই দেখার। এই সিদ্ধান্তে আন্দোলনকারীদের মধ্যেও কিছুটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলে অন্দরের খবর। কেউ কেউ এখনই নতুন জায়গায় উঠে যেতে চাইছিলেন। তাঁদের সংখ্যা কম। তাই তা মানা হয়নি। এদিকে, আন্দোলন দিল্লিমুখী করার ক্ষেত্রেও আন্দোলনকারীরা দ্বিধাবিভক্ত। ডিএ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের অন্যতম নেতা শিক্ষক সুমন বিশ্বাস নিজেও এখন চাকরিহারা। চাকরিহারা আন্দোলনেও তিনি প্রথম সারিতে ছিলেন। তিনি ও কয়েকজন এদিনই দিল্লি চলে গিয়েছেন। তাই আন্দোলন দিল্লিতে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বললেও এখনই সেখানে যাচ্ছেন না যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ। ভবিষ্যতে সেই সংক্রান্ত কর্মসূচি প্রকাশ করা হবে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।