সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ২৬ মাসের পারিশ্রমিক মেটানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুরের সরকারি ফিশারি প্রকল্পের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন অস্থায়ী কর্মীরা। এদিন দুপুরে বিষ্ণুপুরের কাটানধারে অবস্থিত কৃষ্ণবাঁধ ফিশারি প্রকল্পের গেটে তাঁরা তালা ঝুলিয়ে দেন। বকেয়া মেটানোর দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। অফিসের ভিতরে স্থায়ী কর্মীদের আটকে রেখে বাইরে তালা ঝুলিয়ে দেন। এছাড়াও সংলগ্ন ফিশারি গেস্ট হাউসেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
কৃষ্ণবাঁধ ফিশারি প্রকল্পের ইনচার্জ বিকাশ আনন্দ আচার্য বলেন, অস্থায়ী কর্মীদের পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে। তাঁদের দাবি ন্যায্য। প্রকল্পের আয় থেকেই অস্থায়ী কর্মীদের পারিশ্রমিক মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাছ বিক্রির আয় থেকে এই মুহূর্তে এককালীন এত বকেয়া টাকা মেটানো সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, আমরা প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করছি। আগে ঠিকঠাক পারিশ্রমিক দেওয়া হলেও গত দু’-তিন বছর ধরে তা অনিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ২৬ মাসের বেতন বকেয়া হয়ে গিয়েছে। আমরা কাজ করেও টাকা পাচ্ছি না। বাজারে ধার দেনা হয়ে গিয়েছে। তা পরিশোধ করতে পারছি না। কিছুদিন আগে প্রশাসনের আধিকারিকরাও এসেছিলেন। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু, আজ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি। সেই জন্য বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬৪হেক্টরের ঐতিহাসিক কৃষ্ণবাঁধ বর্তমানে মজে গিয়েছে। তার মধ্যে কিছুটা অংশ নিয়ে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ফিশারি ডেভেলপমেন্ট কর্পারেশন লিমিটেডের মাধ্যমে বাম আমলে কৃষ্ণবাঁধ ফিশারি প্রকল্প তৈরি করা হয়। প্রকল্পের মধ্যে ৩২টি ছোট ছোট পুকুর খনন করে তাতে মাছ চাষ করা হয়। অফিস ও মাছের পরিচর্যার জন্য মোট ৩২জন কর্মী নিয়োগ করা হয়। তার মধ্যে ১১জন স্থায়ী এবং ২১জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। আগে কর্পোরেশন থেকে তাঁদের বেতন দেওয়া হতো। কিন্তু, পরবর্তীকালে অস্থায়ী কর্মীদের পারিশ্রমিক প্রকল্পের আয় থেকেই দিতে বলা হয়। কিন্তু, বর্তমানে মাছচাষ করে যা আয় হয়, তা থেকে এত কর্মীর পারিশ্রমিক ঠিকমতো মেটানো হচ্ছিল না। বর্তমানে ২৬মাসের বকেয়া পড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় কর্মীরা এতদিন অনুনয় বিনয় করে কাটিয়েছেন। কিন্তু, পারিশ্রমিক পাওয়ার কোনও আশা দেখতে না পেয়ে বৃহস্পতিবার তাঁরা গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান।