Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেইলের অফিসে দু’দিন দেহ রেখে বিক্ষোভ

কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু, তাতেও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও চাকরি দিতে অনীহা কেন্দ্রীয় সংস্থার।

সেইলের অফিসে দু’দিন দেহ রেখে বিক্ষোভ
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু, তাতেও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও চাকরি দিতে অনীহা কেন্দ্রীয় সংস্থার। অবশেষে কোলিয়ারির জিএম অফিসে দু’দিন দেহ ফেলে রেখে বিক্ষোভের পর নতি স্বীকার করল কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রকের অধীনে থাকা সেইল কর্তৃপক্ষ। পরিবারের দাবি মেনে মৃত শ্রমিকের ছোট মেয়েকে চাকরি দিয়েছে তারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দিন ধরে টানটান উত্তেজনা ছিল কুলটির রামনগর এলাকায়। অবশেষে তৃণমূল নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

Advertisement

ঘটনা সূত্রে জানা গিয়েছে, সালানপুর ব্লকের কল্যাণেশ্বরী অজিতেশ নগরের বাসিন্দা কেদার পান রামনগর কোলিয়ারির শ্রমিক ছিলেন। অন্যদিনের মতো ১৬ ফেব্রুয়ারিও কাজে যান। কোলিয়ারিতে কর্মরত অবস্থায় পে-লোডারের ধাক্কায় তিনি গুরুতর জখম হন। এরপর তাঁকে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়। সেইদিনই অন্য শ্রমিক ও মৃতের আত্মীয়-পরিজনরা রামনগর কোলিয়ারিতে জিএম অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। তাঁরা দাবি জানান, কেদারবাবুর স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছেন। একমাত্র রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুতে পথে বসবে পরিবার। তাই তাঁর এক মেয়েকে যেন চাকরি দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, তাতে সম্মত হয়নি সেইল কর্তৃপক্ষ। এরপর কেদারবাবুর দেহ কোলিয়ারি অফিসের সামনে এনে বিক্ষোভ চলতে থাকে। দেহ যাতে পচন না ধরে, সেই কারণে কাঁচের বিশেষ বাক্সে রাখা হয়। অফিসে দেহ নামিয়ে রাখার পরও কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে অটল থাকে। আন্দোলনকারীরাও সিদ্ধান্ত নেন, ক্ষতিপূরণ ছাড়া তাঁরা দেহ নিয়ে শ্মশানে যাবেন না। চাপ বাড়তে থাকে কর্তৃপক্ষের উপর। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়, কুলটির ব্লক সভাপতি কাঞ্চন রায় প্রমুখ। অবশেষে এদিন দুপুরে ঩সেইল কর্তৃপক্ষ মৃতের ছোট মেয়েকে চাকরির নিয়োগপত্র দেয়। কোলিয়ারির জেনারেল ম্যানেজার জসিম আহমেদ বলেন, পরিবারের দাবি মেনে মৃত শ্রমিকের ছোট মেয়েকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এবারই প্রথম নয়, এই কোলিয়ারি নিয়ে বহুবার আন্দোলন হয়েছে। কখনও জমিহারাদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। কখনও আবার শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকে গুরুত্ব দেয় না। এবার আন্দোলনের ঝাঁঝ এতটাই ছিল যে সেইল কর্তৃপক্ষও নমনীয় হল। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, অসহায় শ্রমিক পরিবারের পাশে আমরা প্রথম থেকেই ছিলাম। অবশেষে তাঁদের দাবি পূরণ হয়েছে।
কল্যাণেশ্বরী এলাকার শ্রমিক নেতা মনোজ সিং বলেন, পরিবারের কেউ চাকরি না পেলে দু‌ই ঩মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়তেন মৃতের স্ত্রী। তাই আমরাও এখান থেকে সকলে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ