Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় এবার ১০ কাঠার জলাশয় বোজানোর তোড়জোড় প্রোমোটারের

নেই পুরবোর্ড। পুরসভায় নেই পর্যাপ্ত আধিকারিকও। এই প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে হাওড়া শহরে একের পর এক ছোটো ও মাঝারি পুকুর চলে যাচ্ছে প্রোমোটারদের দখলে।

হাওড়ায় এবার ১০ কাঠার জলাশয়  বোজানোর তোড়জোড় প্রোমোটারের
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নেই পুরবোর্ড। পুরসভায় নেই পর্যাপ্ত আধিকারিকও। এই প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে হাওড়া শহরে একের পর এক ছোটো ও মাঝারি পুকুর চলে যাচ্ছে প্রোমোটারদের দখলে। এমনই অভিযোগ উঠছে শহরজুড়ে। কোনা পর্বতপাড়ার পর এবার মধ্য হাওড়ার গোরাচাঁদ রায় লেন। প্রায় ১০ কাঠা আয়তনের একটি পুকুর পাম্প চালিয়ে কার্যত জলশূন্য করে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাংশ ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে জোরকদমে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ চলছে দিনের আলোয়, প্রশাসনের তরফে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। প্রসঙ্গত, কোনায় ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের পর্বতপাড়ায় প্রায় ১২ কাঠা আয়তনের একটি পুকুর ধীরে ধীরে মাটি, পাথর ও রাবিশ ফেলে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবারই এই মর্মে খবর প্রকাশিত হয়েছিল ‘বর্তমান’-এ।

Advertisement

এবার ঘটনাস্থল মধ্য হাওড়ার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড। নবান্ন থেকে দূরত্ব খুব বেশি নয়, মন্দিরতলা থেকে মিনিট পাঁচেকের রাস্তা। এই এলাকায় সংকীর্ণ গলির ভিতরে থাকা জলাশয়টি ঘিরে ফেলে তার পাশেই বহুতল নির্মাণ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে প্রায় ৩০ কাঠা জুড়ে বড়ো জলাশয় ছিল। ধাপে ধাপে সেটিকে প্লটের মতো ভাগ করে বাঁশ ও টিনের ঘেরাটোপে আনা হয়। এখন যে অংশটি বোজানোর তোড়জোড় চলছে, সেখানে পাম্প বসিয়ে প্রায় সমস্ত জল তুলে ফেলা হয়েছে। সেই জল ব্যবহার করা হচ্ছে পাশের নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ে। একপাশে মাটি ফেলে ধীরে ধীরে জলাশয় গিলতে শুরু করেছে প্রোমোটিং চক্র। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এলাকার জলধারণের একমাত্র ভরসা ছিল এই পুকুর। এটি নিশ্চিহ্ন হলে আগামী বর্ষায় গোটা পাড়া জলমগ্ন হওয়া সময়ের অপেক্ষা। পরিবেশবিদদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জলাশয় নষ্ট হওয়া মানেই ভবিষ্যতের জলাবদ্ধতার বীজ বোনা।
এক প্রবীণ প্রাক্তন সেনাকর্মীর কথায়, ‘এলাকায় বহু অবসরপ্রাপ্ত পরিবার থাকে, অনেকে একতলায়। বর্ষায় কী পরিস্থিতি হবে, ভাবতেই আতঙ্ক হচ্ছে। চোখের সামনে দেখছি, কীভাবে পুকুরটাকে শেষ করে ফেলা হচ্ছে।’ অন্য এক বাসিন্দা জানান, এক সময় এখানে মাছ চাষ হত। এখন প্রতিবাদ জানাতে গেলে প্রোমোটারদের হুমকি ও অশ্রাব্য গালিগালাজের মুখে পড়তে হচ্ছে। 
এদিকে হাওড়া পুরসভার অন্দরমহল নজরদারির ঘাটতির কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে। পুরবোর্ড না থাকায় প্রোমোটারদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে কয়েকগুণ। বরো অফিসে পর্যাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার নেই। বিল্ডিং সার্ভের এক আধিকারিকের কথায়, ‘নজরদারি চালানোর মতো লোকবল নেই।’ প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনিক শৈথিল্যের সুযোগে কি তাহলে শহরের জলাশয়গুলি একে একে অস্তিত্ব হারাবে? অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ