নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের বাবুরবাগের এক প্রোমোটার সপরিবারে ঘুরতে গিয়েছেন নেপালে। কেয়ারটেকার রয়েছেন। তাঁকে ছুরি দেখিয়ে বাড়িতে লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীরা। কৌশিক দত্ত নামে ওই কেয়ারটেকার পুলিশের কাছে এমনই দাবি করেছেন। আলমারির লকার ভেঙে দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে গিয়েছে। তবে কত টাকা বা সোনার গয়না লুট হয়েছে, সেই তথ্য পুলিশ এখনও পায়নি। ওই কেয়ারটেকার বলেন, বাড়ির মালিক প্রমোটার। তিনি ছ’দিন আগে নেপাল ঘুরতে গিয়েছেন। সেই তথ্য হয়তো দুষ্কৃতীরা কোনওভাবে জানতে পেরেছিল। সোমবার গভীর রাতে পাঁচ থেকে ছ’জন দুষ্কৃতী ঘরে ঢোকে। তারা আমাকে ছুরি দেখিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে। তারা অবাধে লুট করে ফিরে যায়। বর্ধমান থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাড়িতে গিয়ে সবকিছু দেখা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পুজোর ছুটিতে বাঙালির ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বহুদিনের। অনেকেই আবার সকলকে জানিয়ে ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দেন। সেটা বিপজ্জনক হতে পারে। দুষ্কৃতীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখে। কেউ সেরকম স্ট্যাটাস দিলে তাদের পক্ষে চুরি করা সহজ হয়ে যায়। তাই কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস না দেওয়াই ভালো। স্থানীয়রা বলছেন, শহরে চুরি-ছিনতাই বেড়ে গিয়েছে। বাইরের দুষ্কৃতীরা এসে অবাধে লুট করে চলে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে একটি উপনগরীতে চুরি হয়। মেমারি থানার পাল্লা এলাকায় এক ব্যক্তির বাইক চুরি করে দুষ্কৃতীরা নদীয়ায় খুন করেছে। পুজোর আগে বর্ধমান এবং সংলগ্ন এলাকায় অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কে ছড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীরা অধরা থেকে যাচ্ছে। সেই কারণে বারবার চুরি হচ্ছে। পুজোর আগে এবং পরে প্রতিবছর চুরি বেড়ে যায়। এই সময় পুলিশের তরফে টহলদারি বাড়ানো দরকার। যদিও পুলিশের দাবি, অপরাধীদের চিহ্নিত করতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। বহুক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা পড়ে। বাবুরবাগের ঘটনা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই কেয়ারটেকারের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
বাবুরবাগ এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ওই বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা এখন নেই। সেই খবর দুষ্কৃতীরা আগে থেকে কীভাবে পেল, সেটা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। স্থানীয় কোনও সোর্স না থাকলে তাদের পক্ষে এই খবর জানার কথা নয়। দুষ্কৃতীরা বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে কেয়ারটেকার পুলিশকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুষ্কৃতীদের সকলের কাছেই ছুরি ছিল। চিৎকার করলে ওরা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি যাতে ঘরের বাইরে বেরতে না পারি, তার জন্য ওদের একজন আমার কাছে দাঁড়িয়েছিল। - নিজস্ব চিত্র