নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভায় নিজেরা বক্তব্য রাখছেন অথচ সরকার পক্ষ কী বলছে, তা শুনছেন না বিজেপি বিধায়করা, হট্টগোল করে অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। সপ্তাহের অন্যদিনের মতো বৃহস্পতিবারও একই ঘটনা! এদিন কড়া পদক্ষেপ নিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিলের উপর আলোচনায় বিজেপি সদস্যরা যে বক্তব্য রেখেছিলেন, তার সবটা রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে দেন তিনি। এরপরেও বিজেপি সদস্যরা সংযত না-হলে আগামী দিনে আরও কড়া পদক্ষেপ হতে পারে, এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গিয়েছে।
সাধারণত বিধানসভার অধিবেশনে কোনও প্রস্তাব বা বিলের উপর আলোচনায় অংশ নেন তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়করা। এতে দেখা যায়, বিজেপি বিধায়করা যেকোনও বিষয়ের উপর আলোচনায় রাজ্য সরকারের দিকে একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তার ব্যতিক্রম হয়নি বৃহস্পতিবারও। এদিন সেলস ট্যাক্স সংক্রান্ত একটি বিলের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি সদস্যরা রাজ্য সরকারকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন এবং একাধিক প্রশ্ন তোলেন। এরপর রাজ্যের তরফে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বক্তব্য রাখার সময় তাঁরা হট্টগোল জুড়ে দেন। সরকারের বক্তব্য না-শুনেই কক্ষ ছাড়তে থাকেন তাঁরা। স্পিকার অনুরোধ করেন, ‘আপনারা শুনুন, রাজ্য সরকার কী বলতে চাইছে। এভাবে বেরিয়ে যাওয়া অসৌজন্যের পরিচয়।’ কিন্তু বিজেপি বিধায়করা অধ্যক্ষের কথায় গুরুত্ব দেননি। বিরোধীদের আচরণ নিয়ে তৎক্ষণাৎ তীব্র প্রতিবাদ জানান মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা। তারপরই কড়া পদক্ষেপ নেন অধ্যক্ষ। তিনি ঘোষণা করেন, বিলের উপর বিজেপি বিধায়করা যে বক্তব্য রেখেছিলেন, তা রেকর্ড থেকে বাদ যাবে।
বিজেপির সব বিধায়কের বক্তব্য বিধানসভার রেকর্ড থেকে ‘বাদ’ যাওয়ার ঘটনা প্রায় বেনজির, অন্তত ১৫ বছরে অভূতপূর্ব। তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক দাবি করেন, প্রতিদিনই হট্টগোল করে বেরিয়ে যাওয়া, সুষ্ঠুভাবে অধিবেশন পরিচালনায় বাধাদান হল বিধানসভার গরিমার অমর্যদা। বিজেপি সদস্যদের বহিষ্কার করা হোক। এই বিষয়ে
স্পিকার জানান, আচমকা বহিষ্কার করা যায় না। একটি প্রস্তাব আনতে হয়। সিদ্ধান্ত হয় তারই উপর ভিত্তি করে। তবে এদিন বিজেপি পরিষদীয় দলের
মধ্যেও বড়সড় ফাটল দেখা যায়। বিজেপির অন্য সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে গেলেও অশোক লাহিড়ি বসেছিলেন। তিনি হয়তো সরকার পক্ষের বক্তব্য শুনতেই চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাঁকে বাইরে নিয়ে যান বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ।