Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬

অপারেশন সিন্দুরকে ভোটপ্রচারে কাজে লাগাতে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী

পহেলগাঁও হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছিলেন সৌদি আরবে। সৌদি সফর সমাপ্ত হওয়ার আগেই তিনি দ্রুত ফিরে আসেন দেশে এবং তারপরই বিহার সফরে যান।

অপারেশন সিন্দুরকে ভোটপ্রচারে কাজে লাগাতে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছিলেন সৌদি আরবে। সৌদি সফর সমাপ্ত হওয়ার আগেই তিনি দ্রুত ফিরে আসেন দেশে এবং তারপরই বিহার সফরে যান। বস্তুত পহেলগাঁও হামলার যোগ্য জবাব যে দেওয়া হবেই, এই ঘোষণা তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে করেছিলেন মধুবনীর জনসভা থেকে। প্রধানমন্ত্রী অপারেশন সিন্দুরের পরও পাঞ্জাব, ভূজ, আমেদাবাদ এবং বিকানির সফর করেছেন। প্রতিটি জনসভায় মোদির অপারেশন সিন্দুরের সাফল্যকে নতুন ভারতের শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আজ মোদি ফের যাচ্ছেন বিহার। দু’দিনের সফর। তাঁর সফরসূচিতে থাকছে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমও। বারংবার বিহার কেন? কারণ বিহারে কয়েকমাস পরই বিধানসভা ভোট। বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী পহেলগাঁওয়ের পর একবারও জম্মু-কাশ্মীর গেলেন না কেন? পাকিস্তানের আক্রমণে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন গ্রামগুলির বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিরোধীদের প্রশ্ন, মোদির কাছে বারংবার বিহার কেন অগ্রাধিকার? এই রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই আজ প্রধানমন্ত্রী শুধু যে বিচ্ছিন্নভাবে বিহার, বাংলায় যাচ্ছেন তা নয়। বরং অপারেশন সিন্দুর সাফল্যকে দেশবাসীর মধ্যে আরও বেশি করে প্রচারের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ জুন থেকে বিজেপির এই কর্মসূচি শুরু হবে। এই কর্মসূচিতে  প্রত্যেক এমপি নিজেদের কেন্দ্রগুলিতে অন্তত ১৫ কিলোমিটার ব্যসার্ধ এলাকায় পদযাত্রা করবেন। প্রচারিত হবে পুস্তিকা ও লিফলেট। পাশাপাশি মোদি সরকারের মন্ত্রীরা যাবেন রাজ্যে রাজ্যে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই যাবেন বিভিন্ন রাজ্যে। দলীয় সূত্রের খবর বিহার থেকে বাংলা। অসম থেকে কেরল অথবা পুদুচেরি। অর্থাৎ আগামী ১০ মাসের মধ্যে যে সব রাজ্যে হতে চলেছে বিধানসভার ভোট, সেখানে অন্যতম শুধু নয়, প্রধানতম প্রচারই আবর্তিত হবে অপারেশন সিন্দুরকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিবাহিনি কীভাবে পহেলগাঁওয়ে  পর্যটকদের হত্যা করেছে এবং পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর প্রত্যুত্তর পর্ব নিয়ে বিস্তারিত প্রচার করা হবে। 

Advertisement

প্রথমে ঠিক ছিল, মোদি সরকারের ১১ বছর পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি প্রচারে বেশি করে আনা হবে। এই ১১ বছরে মোদি সরকারের সাফল্য ও কৃতিত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পকে প্রচার অভিযানে রাখা হলেও, অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনাকে বদলে দিয়েছে। ৯ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত এক মাসের প্রচার অভিযানেই শুধু সীমাবদ্ধ থাকবে না সরকার। আগামী নির্বাচনগুলির অন্যতম প্রচারেও উঠে আসবে অপারেশন সিন্দুর। সেখানে বলা হবে নতুন ভারত, পাকিস্তানের সন্ত্রাসের তাৎক্ষণিক জবাব দিতেই অভ্যস্ত। এবারও যেমন দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ