দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম যাঁরা বোঝেন, তাঁরা জানেন, দাঁতের সঠিক পরিচর্যার অনেকটাই নির্ভর করে ব্রাশ করার পদ্ধতির উপর। সকালের তাড়াহুড়োয় কিংবা ভুল ধারণার বশে অনেকেই নিয়ম মেনে ব্রাশ করেন না। ফলে ‘ওরাল হেলথ’ বা ‘মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য’ বিঘ্নিত হয়। টুথব্রাশের নিত্যনতুন আধুনিক ধরন বাজারজাত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাধারণ ব্রাশের জায়গায় অনেকেই আস্থা রাখছেন পাওয়ার টুথব্রাশের উপর।
কী এই পাওয়ার ব্রাশ?
এ অনেকটা ঝাঁটার বদলে ভ্যাকিউম ক্লিনার! ঘরের যেসব কোণে বা সোফার যেসব খাঁজে আপনার হাত পৌঁছায় না, সেখানে যেমন ভ্যাকিউম ক্লিনার কাজের কাজটি সারে, ঠিক তেমনই দাঁতের যেসব খাঁজ বা কোনা সাধারণ ব্রাশের ব্রিসল পৌঁছয় না, সেখানে দুর্দান্ত কাজ করে পাওয়ার টুথব্রাশ। ব্যাটারিচালিত এই ব্রাশ নিজের মতো করেই সর্বত্র সহজে চলাচল করে দাঁতের বর্জ্য টেনে বের করতে সক্ষম।
কোথায় এগিয়ে
সাধারণ টুথব্রাশের মতো এই পাওয়ার ব্রাশেও পাতলা ব্রিসল থাকে। সুইচের মাধ্যমে ব্রাশ চালু করলেই এই ব্রিসলগুলি ভাইব্রেট করতে শুরু করে। তারপর সে নিজের মতো করে দাঁতের চারপাশে ঘুরে খাবার ও ময়লা পরিষ্কার করে। এর কাজ স্বয়ংক্রিয়। এই ব্রাশে টাইমারও সেট করা যায়। কতক্ষণ ধরে দাঁত মাজতে চান, বা কতটা তাড়ায় আছেন সেই অনুযায়ী এই ব্রাশ ব্যবহার করা যায়।
সকলে ব্যবহার করতে পারে?
দন্তবিশেষজ্ঞদের মতে, এমনিতে এই টুথব্রাশ সকলেই ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের বেলায় দাঁত মাজার সময় প্রতিদিন যে যুদ্ধ করতে হয়, সেখানে এই ব্রাশ অনেকটাই মুশকিল আসান হতে পারে। অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়, এমন রোগীদের ক্ষেত্রেও এই পাওয়ার টুথব্রাশ অনবদ্য। তাই পার্কিংসন’স, অ্যালঝাইমার্স বা জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের বেলায় এই ব্রাশ বিশেষ কাজে আসে। তবে কোনও ব্যক্তির যদি দাঁতে বিশেষ কোনও সমস্যা থাকে কিংবা পাইরিয়া, মাড়ির কোনও অসুখ, জিনজিভাইটিসের মতো সমস্যা থাকে, তাহলে তাঁরা এই ব্রাশ এড়িয়ে চলবেন। কারণ, এই ব্রাশ মানুষ নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বরং ব্রাশটি নিজেই মুখের চারপাশে ঘোরাফেরা করে। তাই কোন দাঁতে ব্যথা, কোথায় অল্প চাপ দিতে হবে তা তার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তাই দাঁতে ব্যথা হতে পারে।
কেমন দাম?
নানা সংস্থার পাওয়ার ব্রাশ অনলাইন বা অফলাইনে কিনতে পাওয়া যায়। ছোটদের ব্রাশের দাম শুরু ৩০০ টাকা থেকে। বড়দের বেলায় তা ৫০০ টাকা থেকে শুরু।